সংবাদদাতা, বাগডোগরা: মারণরোগে আক্রান্ত হস্তিশাবকের চিকিৎসা চলছে বাগডোগরার জঙ্গলে। বনদপ্তরের আশঙ্কা, এই রোগ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যারফলে তড়িঘড়ি বৃহস্পতিবারই থাইল্যান্ড থেকে পশু চিকিৎসকের টিম এসে পৌঁছল শিলিগুড়িতে।
সংবাদদাতা, বাগডোগরা: মারণরোগে আক্রান্ত হস্তিশাবকের চিকিৎসা চলছে বাগডোগরার জঙ্গলে। বনদপ্তরের আশঙ্কা, এই রোগ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যারফলে তড়িঘড়ি বৃহস্পতিবারই থাইল্যান্ড থেকে পশু চিকিৎসকের টিম এসে পৌঁছল শিলিগুড়িতে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাগডোগরার ব্যাঙডুবি সেনা ছাউনিতে ৬ বছর বয়সি ওই স্ত্রী হাতিটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেয়ে বনদপ্তরে খবর দেন সেনাকর্মীরা। এরপর থেকেই বাগডোগরা বনদপ্তর সহ বেঙ্গল সাফারি থেকে পশু চিকিৎসক এসে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন। ওই শাবকের পিছনের ডান পায়ে বড় আকারের ক্ষত রয়েছে। কয়েকদিন চিকিৎসা করার পর ঘুমপাড়ানি ওষুধ দিয়ে অবশ করে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। রিপোর্ট আসা মাত্রই চমকে ওঠে বনদপ্তর। ওই নমুনার রিপোর্টে ট্রাইপ্যানোসোমা পরজীবী প্রোটোজোয়া (এককোষী আদ্যপ্রাণী) দেখা দিয়েছে। এরপর পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করলে থাইলেরিয়া নামে আরও একটি পরজীবীও দেখা দেয়।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রোগ বিরল। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের রক্তকণিকা ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। ফলে হাড় নরম হয়ে যায়। এই মারণরোগ হাতি থেকে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই রোগ দেখা মাত্রই বনদপ্তরের হয়ে কাজ করা একটি সংগঠন থাইল্যান্ডের বিখ্যাত একটি পশু চিকিৎসালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর এদিন থাইল্যান্ড থেকে চারজন পশু চিকিৎসকের টিম বাগডোগরায় আসে। হাতিটিকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বনদপ্তর। তাই হাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে হোপ অর্থাৎ আশা। বর্তমানে বাগডোগরায় বনদপ্তরের টাইপু বিটে হাতিটির চিকিৎসা চলছে। হাতিটি চলাফেরা করতে না পারলেও, খাওয়া দাওয়া করছে।
এ বিষয়ে সেনাকর্মী বিলাস দেবনাথ বলেন, হাতিটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেয়ে বনদপ্তরে খবর দেওয়া হয়েছিল। এরপর হাতিটির চিকিৎসা করতে বনদপ্তর ও সেনাকর্মী যৌথভাবে প্রচেষ্টা চালায়। আশা করছি, হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠবে। বনদপ্তরের কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে বলেন, প্রথমে হাতিটিকে সেনা ছাউনির ভিতরে রাখলেও, উন্নত চিকিৎসা দিতে পরে টাইপু বিটে নিয়ে আসা হয়েছে। পশু চিকিৎসক হাতিটির ক্ষত পায়ে মালিশ ও রেডিওগ্রাফির মাধ্যমে চিকিৎসা করেন। ট্রাইপ্যানোসোমা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই পরজীবী প্রোটোজোয়া মূলত জঙ্গলে ঢুকে পড়া গবাদিপশুর থেকে আসে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সেইসব গবাদিপশুকেও ভ্যাকসিন দেওয়া যায়। অসুস্থ হস্তিশাবকের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড থেকে চারজন চিকিৎসক এসেছেন। তাঁরা কাজ শুরু করছেন। ইঞ্জেকশন সহ সমস্তরকম চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠবে।