পুজোর উপহার হিসাবে জেন-জি’র প্রথম পছন্দ ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্য দে সরকার, মালদহ: দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড়। দুর্গাপুজো মানে নতুন জুতো। সব মিলিয়ে নিজেকে নতুন বহিরঙ্গে সাজিয়ে নতুন আনন্দের মেজাজে এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে হই হই করে ছুটে বেড়ানো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোধ হয় দ্রুত বদল আসছে পুজোর সময়ে কেনা সামগ্রীর তালিকায়। বিশেষ করে আজকের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ নতুন জামাকাপড়, জুতো, প্রসাধনীর পরিবর্তে কিনতে চাইছে দামী মোবাইল অথবা ল্যাপটপের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস। 

Advertisement

পুজোর বাজারে তাই এই প্রজন্মের ক্রেতাদের বাজার ধরতে বেশকিছু চমকও দিচ্ছে ইলেকট্রনিক গুডসের দোকানগুলিও। কোথাও মোটা ছাড় আবার কোনো দোকানে পুজো উপহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে নবীন ক্রেতাদের নজর কাড়তে। তবে দোকানে না গিয়ে নবীন প্রজন্মের একাংশ আবার ঘরে বসে অনলাইনেই সেরে ফেলছেন পছন্দের ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস। 
হায়াদরাবাদ থেকে পুজোর ছুটিতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মালদহে আসছেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া সুতীর্থ মৈত্র। বাবা শুভময় মৈত্র বলেন, ছেলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে পুজোয় একটি টি-শার্ট ও জিনসের প্যান্ট ছাড়া অন্য কিছুই নেবেন না তিনি। বরং দামী স্মার্টফোন চাই তাঁর যার দাম নিদেনপক্ষে ৭০ হাজার টাকা। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মালদহ শহরের একটি দোকানে স্মার্টফোন কিনতে এসে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী শুভময়বাবু বললেন, দামি মোবাইল কিনলে ছাড়ের পাশাপাশি দু’টি, তিনটি বা পাঁচটি কিস্তিতে দাম পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। তাই ছেলের আব্দার মেনে নিয়েছি। 
পুদুচেরিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়া মেঘদ্যুতি সিংহ ফোনে বাড়িতে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি নেবেন ল্যাপটপ। মেঘদ্যুতি বলেন, এখন লেখাপড়া অনেক বদলে গিয়েছে। স্নাতকোত্তর স্তরে আমাদের ইন্টারনেট ঘেঁটে প্রচুর তথ্য ও পরিসংখ্যান জোগাড় করতে হয়। প্রজেক্টও তৈরি করতে হয়। স্মার্টফোনে সবকিছু করা যায় না। তাই ল্যাপ্টপ চেয়েছি। পুজোতে সামান্য জামাকাপড় হলেই চলবে। পুজো ছাড়াও জন্মদিন বা অন্যান্য সময়ে প্রচুর নতুন পোষাক উপহার পাই। তাই এখন নিজের লেখাপড়ার জন্য আমার ল্যাপটপই চাই। 
মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, তরুণ প্রজন্মের দামী স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কেনার ঝোঁক উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আগে আমরা পুজোতে জামাকাপড়, জুতো ইত্যাদি কেনার পাশাপাশি বড়জোর একটা বড় রেফ্রিজারেটর বা ওয়াশিং মেশিন কিনতাম যা পরিবারের সব সদস্যদেরই কাজে লাগত। কিন্তু এখনকার জেন-জি ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস কিনতে বেশি আগ্রহী। এই পরিবর্তন আমরা স্পষ্ট লক্ষ্য করছি।