Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ড্রোন উড়তেই খোলা হল হুকিং, কাটোয়ায় ধরা পড়ল বিদ্যুৎ চুরি, ৩টি মামলা দায়ের

বোরো চাষের সময়েই গ্রামীণ এলাকায় অনেকেই হুকিং করে সাবমার্সিবল চালায়।

ড্রোন উড়তেই খোলা হল হুকিং, কাটোয়ায় ধরা পড়ল বিদ্যুৎ চুরি, ৩টি মামলা দায়ের
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বোরো চাষের সময়েই গ্রামীণ এলাকায় অনেকেই হুকিং করে সাবমার্সিবল চালায়। তাতে সরকারি কোষাগারে বিপুল অঙ্কের টাকা ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে এবার অভিনব উপায় নিল রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা।  ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো শুরু হল। কাটোয়ায় আকাশে ড্রোন উড়তে দেখেই হুকিং করা বিদ্যুতের তার খুলে ফেলা হল। ড্রোনে সেই ভিডিও ধরা পড়েছে। অভিযানে নেমে একদিনে ৩টি এফআইআর দায়ের করল কাটোয়া ডিভিশন বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (কাটোয়া) রাহুল আগরওয়ালা বলেন, আমরা এবার বিদ্যুৎ চুরি রুখতে ড্রোন উড়িয়েই নজরদারি শুরু করেছি। আমাদের ড্রোন নজরে আসতেই হুকিং খুলে ফেলার দৃশ্যও ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে।  আগামী দিনেও এমন অভিযান হবে।  

Advertisement

জানা গিয়েছে, কাটোয়া-২ ব্লকের নতুনগ্রাম, পলসোনা, কুয়ারা, শ্রীবাটি, আউরিয়া এসব এলাকায় প্রথম দফায় ড্রোন ওড়ানো হয়। কুয়ারা গ্রামে মাঠে একটি সাবমার্সিবলের মালিক প্রশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। অভিযোগ, ড্রোনে ধরা পড়েছে ওই ব্যক্তির সাবমার্সিবল হুকিং করে চলছে। এমনকী, ড্রোন দেখে তড়িঘড়ি হুকিং খুলতেও দেখা গিয়েছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ড্রোন দেখেই সাবমার্সিবলে থাকা ব্যক্তি ট্রান্সফরমারের জাম্পার নামিয়ে দেয় তড়িঘড়ি। এরপর সে তরতরিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে পড়ে ঝুঁকি নিয়েই হুকিং করা সাবমার্সিবলের সঙ্গে সংযোগবাহী তার খুলে ফেলে। কিন্তু এসব করেও শেষরক্ষা হয়নি। শেষমেশ অভিযানে থাকা বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে এফআইআর রুজু করেছে। 
কাটোয়া মহকুমা জুড়ে পাঁচটি ব্লক মিলে মোট ৭ হাজার সাবমার্সিবলকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এগুলি থেকে বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল জমা হয় সরকারি কোষাগারে। ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ চুরিতে ধরা পড়ে প্রায় ১৫০টি এফআইআর হয়েছিল কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট ও কাটোয়া থানা এলাকায়। তার থেকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা আদায় হয়েছিল।  এবছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি এফআইআর হয়েছে তিন থানায়। 
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এক অফিসারের কথায়, আমরা অভিযানে গেলেই আগে থেকেই খবর হয়ে যেত। তাতে অনেকেই সেই সুযোগে হুকিং খুলে ফেলতে পারত। আর আমাদেরও নিরাশ হয়ে ফিরতে হতো। এবার আর সেটা হচ্ছে না। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই রাস্তা থেকেই ড্রোন উড়িয়ে গোটা মৌজায় নজরদারি চালাতে পারছি। তাতে ভিডিও সহ চুরির হাতেনাতে প্রমাণ মিলছে। রাজ্য জুড়েই এমন ধাঁচে অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে। এর জন্য ড্রোন ওড়াতে দক্ষ একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। ওই সংস্থার তরফে অভিযানের দিনগুলিতে ড্রোন ওড়ানো হবে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সঙ্গে মিলে।  ছবি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সৌজন্যে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ