সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: রাত তখন প্রায় তিনটে। আধার কার্ডে বায়োমেট্রিক আপডেট করাতে কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসের সামনে এসে পৌঁছেছিলেন ৭৬ বছরের বৃদ্ধা মনি মিত্র। উদয়চন্দ্রপুর থেকে এত রাতে ছুটে এসেও শেষ পর্যন্ত আধার আপডেট করাতে পারলেন না। কারণ, দৈনিক নির্দিষ্ট সংখ্যক পরিষেবার মধ্যে প্রথম ৩৫ জনের তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। বুধবার দুপুরে পোস্ট অফিসের সামনে বসে মন খারাপ করে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। বয়সের ভার, দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এবং রাতভর অপেক্ষার পরও কাজ না হওয়ায় তাঁর ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে আধার পরিষেবার সীমিত সংখ্যার উপর।
মনি মিত্রের কথায়, এই বয়সে এত দূর থেকে বারবার আসা সম্ভব নয়। রাত তিনটের সময় এসে লাইন দিয়েও কাজ হল না। বেশ কয়েকবার বলেছি, কিন্তু কেউ কিছুই শুনছে না। শুধু মনি মিত্রই নন, একই সমস্যার মুখে পড়ছেন আরও বহু মানুষ। আসাননগর থেকে বড়ো মেয়ের আধার কার্ডের কাজ করাতে এসেছিলেন সুস্মিতা সাঁতরা। ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও প্রথম ৩৫ জনের মধ্যে জায়গা হয়নি তাঁর। ফলে গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কাজ না করিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর অভিযোগ, এত ভোরে এসে লাইনে দাঁড়ানোর পরও যদি কাজ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
পরিষেবা নিতে আসা মানুষের দাবি, কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসে প্রতিদিন মাত্র ৩৫ জনের আধার সংক্রান্ত কাজ হওয়ায় সমস্যা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আধার কার্ডে বায়োমেট্রিক আপডেট, নামের বানান সংশোধন-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। কিন্তু সীমিত সংখ্যক পরিষেবার কারণে ভোররাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েও কাজ করাতে পারছেন না। তাঁদের দাবি, মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দৈনিক আধার পরিষেবার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হোক। বিশেষ করে প্রবীণ, মহিলা এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা মানুষ যাতে পরিষেবা পায়, সেদিকে নজর দেওয়াও জরুরি। নিজস্ব চিত্র