


সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: বিয়ে বাড়ির জন্য শাল গাছের ডাল সংগ্রহ করতে গিয়ে হাতির আক্রমণে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। জঙ্গল থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেন চার জন। সোমবার কুমারগ্রাম ব্লকের সংকোশ বিটের ৩ নম্বর কম্পার্টমেন্টের জঙ্গলে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সানিয়া ওরাওঁ (৭৬)। সংকোশ চা বাগানের বড়া লাইনের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। এলাকারই এক বিয়ের জন্য সানিয়া ওরাওঁ সহ পাঁচ জন জঙ্গলে যান শাল গাছের ডাল সংগ্রহ করতে। আদিবাসী রীতি অনুযায়ী বিয়েতে শাল গাছের ডাল সহ অন্যান্য গাছের ডাল সংগ্রহ করে পুজো করা হয়। এলাকার বয়স্ক নাগরিক সানিয়ার উপর দায়িত্ব পড়ে শাল গাছের ডাল সংগ্রহ করে আনার। জঙ্গলে ঢোকার পর হাতি সানিয়ার উপর আক্রমণ করে বসে। এই ঘটনা দেখে বাকি চার জন পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কুমারগ্রাম থানার পুলিশ ও বনদপ্তরের কুমারগ্রাম রেঞ্জের বন কর্মীরা। জঙ্গল থেকে তারা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। এই ঘটনাএ গোটা চা বাগানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি সংকোশ চা-বাগানের ৩০ নম্বর সেকশনে হাতির আক্রমণে আনন্দ মিঞ্জ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এর কয়েকদিনের মাথায় হাতির আক্রমণে ফের একজনের মৃত্যুতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা।
বনদপ্তরের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পূর্ব বিভাগের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা বলেন, সংকোশ বিটের ৩ নম্বর কম্পার্টমেন্টের জঙ্গলে হাতির হামলার মুখে পড়েন ওই ব্যক্তি। যেহেতু সরক্ষিত জঙ্গলের ভিতরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তাই পরিবার সরকারিভাবে কোনও ক্ষতিপূরণ পাবে না। সাধারণ মানুষকে জঙ্গলের কোর এরিয়াতে প্রবেশ না করার জন্য বারবার সচেতন করা হয়। তা সত্ত্বেও মানুষ আইন অমান্য করে জঙ্গলে ঢুকছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় ফের সচেতনতামূলক প্রচার করা হবে।