Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামের রামরামা বিটে হাতির হানায় প্রৌঢ়ের মৃত্যু, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা

রাজ্যজুড়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। ঝাড়গ্ৰামের হাতি উপদ্রুত এলাকায় ২০টি ড্রপগেট বসানো হয়েছে।

ঝাড়গ্রামের রামরামা বিটে হাতির হানায় প্রৌঢ়ের মৃত্যু, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রাজ্যজুড়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। ঝাড়গ্ৰামের হাতি উপদ্রুত এলাকায় ২০টি ড্রপগেট বসানো হয়েছে। বনবিভাগের কর্মীরা হাতি চলাচলের রাস্তায় প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাচ্ছেন। তার মধ্যেই শনিবার সকালে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের রামরামা বিটে হাতির হানায় এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হল। মৃতের নাম শেখ হারুন(৫৭)। তাঁর বাড়ি মানিকপাড়া এলাকার শালপাতড়া গ্ৰামে। হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, বনবিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Advertisement

পশ্চিম মেদিনীপুরের চাঁদরা থেকে ৪০টি হাতির দল শুক্রবার রাতে মানিকপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে। ৩৬টি হাতি চিতলবনী হয়ে কুমারী জঙ্গলে ঢোকে। পিছিয়ে পড়া চারটি হাতি সাতপাটি হয়ে শালপাতড়া গ্ৰামে পৌঁছায়। গ্ৰামের চারপাশে হাতিগুলি ঘোরাঘুরি করছিল। এদিন সকাল সাড়ে ৬টায় হারুন সাহেব সাইকেলে চেপে গ্ৰাম থেকে বের হন। গ্ৰামলাগোয়া ক্যানেল পাড়ের রাস্তায় আচমকা চারটি হাতির সামনে পড়ে যান। একটি হাতি তেড়ে এসে তাঁকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারে। গ্ৰামবাসীরা উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা হারুন সাহেবকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, রামরামা বীটের কেশাভুলা, মুরাবনী, কেশডাহি, চাপাসোল, জামবেদিয়া, কলসিভাঙা সহ একাধিক গ্রামীণ এলাকায় সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বনবিভাগের তরফে ঝাড়গ্রামে হাতির হানা রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, হাতির হানায় মৃতের সংখ্যা কমলেও মৃত্যু পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। বনদপ্তর সূত্রে খবর, হাতির হানায় ২০২২-’২৩ সালে ২৮ জন, ২০২৩-’২৪ সালে ১৭ জন, ২০২৪-’২৫ সালে ৭ জন এবং ২০২৫-’২৬ সালে ৫ জনের(এর মধ্যে একজন বনবিভাগের কর্মী) মৃত্যু হয়েছে। বনবিভাগের তরফে হাতি উপদ্রুত জঙ্গল এলাকার শর্টকাট রাস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাগাতার সতর্ক করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জঙ্গল এলাকার মানুষ সেই নিষেধাজ্ঞা মানছে না। হারুনের ভাইপো আবিদ আলি এদিন বলেন, কাকা সকালে ঝাড়গ্রাম শহরের উদ্দেশে বের হন। কিন্তু হাতির পালের সামনে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। আমরা চাইছি, বনবিভাগের তরফে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। মানিকপাড়া রেঞ্জের এক অফিসার বলেন, হাতির পালটি শুক্রবার রাতে এলাকায় ঢুকেছিল। হাতি করিডোরে ড্রপগেট ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছিল। ওই প্রৌঢ় ড্রপগেট দিয়ে বের হয়েছিলেন। সতর্কতা না মানায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাতিগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।

সম্পর্কিত সংবাদ