Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এক ম্যাচে ২৯ গোল! এমএলএ কাপে রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা চুঁচুড়ায়

এক ম্যাচে ২৯ গোল! এমএলএ কাপে রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা চুঁচুড়ায়
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রুদ্ধশ্বাস ২৫ মিনিট। টানটান উত্তেজনা, দর্শকের চোখেমুখে বিস্ময়। সঙ্গে মস্করাও। শেষ বাঁশি বেজে যাওয়ার পর কেউ কেউ নিজের শরীরে চিমটি কেটে বোঝার চেষ্টা করলেন, স্বপ্ন দেখছিলেন কি না। বড়দিনের বিকেল থেকে রাত গড়াল ওই ২৫ মিনিট আর ২৯ সংখ্যার চর্চায়। আলোচনায় জুড়ল অটোচালক থেকে ফুটবলপ্রেমী। ঘটনার তীব্র ঘনঘটার কেন্দ্রে চুঁচুড়া ময়দান। বুধবার এমএলএ কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে শীতের রাতেও চড়ল পারদ। শেষ পর্যন্ত হাসি আর মস্করার সঙ্গে ছুটল গোলের ফোয়ারা। দশ, বিশ নয়, গুনে গুনে ২৯ গোল। 
Advertisement
বড়দিনের সন্ধ্যায় একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ প্রায় রহস্য রোমাঞ্চ গল্পের চেহারা নিয়েছিল। দর্শকরা ঠাট্টা করে তাই বললেন। বিকেলের রোদ তখন পড়ন্ত। উত্তরপাড়া নেতাজি ব্রিগেড বনাম চুঁচুড়া পেয়ারাবাগান কোচিং সেন্টারের ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হয়েছে। ট্রাইব্রেকারে দু’পক্ষের ফলাফল ৩-৩। তবে সাডেন ডেথ শুরুর মুখেও সমর্থক আর খেলোয়াড় ছাড়া মাঠে তাপ উত্তাপ বিশেষ দেখা যায়নি। আচমকা দর্শকরা উপলব্ধি করেন দু’পক্ষই এ ওর গোলে অবলীলায় বল ঠেলে চলেছে। মুহূর্তে মাঠের মেজাজ বদলে যায়। এ বার্তা অন্যত্র রটে যায়। চুঁচুড়া মাঠের আশপাশ থেকে ভিড় উঁকি দিতে শুরু করে। মাঠের মধ্যে দু’পক্ষ ছ’টি করে গোল দিয়ে নতুন করে সাডেন ডেথ’য়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খেলা দেখছিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিনি ফুট কাটলেন, ‘সাডেন ডেথ’ কোথায় হে, এত ‘অনন্ত জীবন’ চলছে। দর্শকরাও মজায় মেতেছেন তখন। মাঠের প্রান্ত থেকে উড়ে আসছে চিৎকার, ‘রাতভর চালিয়ে যাও, ময়দানে পিকনিক দেব।’ দু’পক্ষের গোলকিপারের মুখ তখন দেখবার মতো। একটা অন্তত ‘সেভ’ চাই, এমন কোনও সতীর্থ বলেছিলেন কি না জানা যায়নি। তবে গোলকিপারদের গোল পোস্টের তলায় দাঁড়ানো আর গোল হজম করে ফিরে আসার ধারাবাহিকতা থামছিল না। সন্ধ্যার মুখে শেষ পর্যন্ত নেতাজি ব্রিগেডের গোলকিপার দাড়ি টানলেন। তাঁর ‘সেভ’ এবং রেফারির বাঁশি যখন মিলে গেল ততক্ষণে শুধু ট্রাইব্রেকারেই গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১। গোটা ম্যাচে ২৯। আরও একবার বেকায়দায় দর্শক। তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না ভানুমতির খেল শেষ হওয়ায় দুঃখ করবেন, না ২৯ গোলের পরিসংখ্যান নিয়ে মজা করবেন। মাঠে ছিলেন চুঁচুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল সম্পাদক গোপী চক্রবর্তী। তিনিও বলেন, ‘সে যে কি একটা সন্ধ্যা বলে বোঝাতে পারব না। ১৬ বছর ধরে মাঠে ময়দানে আছি। এমন কাণ্ড কখনও দেখিনি, শুনিনি।’
সম্পর্কিত সংবাদ