চেন্নাই ও নয়াদিল্লি: ‘কলমের এক খোঁচায় কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। তামিলনাড়ুর সঙ্গে যে এমন হবে না, তা কে বলতে পারে?’ ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমনই জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। তাঁর নিশানায় মূলত কেন্দ্রের বিজেপি সরকারই। শনিবার তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকের আইনজীবী সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালের দাবি, এই আইন পাশ হলে দেশের নিরিখে রাজ্যের আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। তাঁর মতে, এধরনের পদক্ষেপ দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নষ্ট করে দেবে। বিজেপি সরকার চাইছে, দেশে একটাই ভোট হোক, নির্দিষ্ট একটি ভাষা, একটি ধর্ম ও একটি রাজনৈতিক দল থাকুক। তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর উদ্যোগকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করেন ডিএমকের প্রবীণ নেতা তথা তামিলনাড়ুর বনমন্ত্রী কে পোনমুডি। তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আইন আনার চেষ্টা চলছে। যদিও মোদি সরকারের পাল্টা দাবি, এক সঙ্গে ভোট হলে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া যাবে। এদিন সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণেই ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর বিরোধিতা করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ১৯৫২ সালের উদাহরণ টেনে এনেছেন তিনি। জানিয়েছেন, ১৯৫২ সাল থেকে কয়েকবার বিধানসভা ও লোকসভা ভোট একসঙ্গে হয়েছিল। তখন তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী বলা হয়নি। তা হলে এখন সেই প্রসঙ্গ উঠছে কেন? মেঘওয়ালের বক্তব্য, এসংক্রান্ত বিল সংসদের যৌথ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও চাইছেন, খসড়া আইন ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হোক। ইতিমধ্যেই কমিটির বিরোধী সদস্যদের ‘এক নির্বাচন’ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁরা সমস্তটাই বুঝেছেন। এরপরও তাঁদের কেউ বিরোধিতা করলে বুঝতে হবে, রাজনৈতিক কারণেই বিরোধিতা করা হচ্ছে।



