সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্যার স্বামীকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম তারকনাথ মাঝি ওরফে রাজু। বাড়ি মঙ্গলকোটের রঘুনাথপুর গ্রামে। তাঁর চড়েই প্রতিবেশী যুবক বুদ্ধদেব বাগদির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিস লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে। এদিন ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হয়। বিচারক তিনদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, বুদ্ধদেব মোড়বাঁধ এলাকায় পাওয়ার হাউসে অস্থায়ী ঝাড়ুদার পদে কাজ করতেন। সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। পুজোর আগের দিন ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রতিবেশী রাজুর সঙ্গে তিনি বচসায় জড়িয়ে পড়েন। রাজুর স্ত্রী মনিকা মাঝি মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন আচমকা বুদ্ধদেবের কানে রাজু সজোরে চড় মারে। বুদ্ধদেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে প্রথমে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বুদ্ধদেবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরেরদিন তাঁকে কলকাতার এনআরএসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর কানের অস্ত্রোপচার হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বুদ্ধদেবের মৃত্যু হয়।
Advertisement
মৃতের দাদা সহদেব বাগদি মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, তাঁর ভাই বুদ্ধদেবকে গালাগালি করছিল রাজু। প্রতিবাদ করলে বুদ্ধদেবের কানে সজোরে চড় মারে। যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃতের মা পূর্ণিমা মাঝি বলেন, রাজুর চড়েই ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ও আমার ছেলেকে খুন করেছে। এদিনও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা মনিকাদেবীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, কেউ দোষ করলে তার বিরুদ্ধে পুলিস ব্যবস্থা নেবে। এতে আমার আর কী বলার আছে। প্রতিবেশী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাসিন্দারা।



