নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাকপুর: ডিম থেরাপি চলছিল। তাতেই মেতে রয়েছে বঙ্গবাসী। এবার শুরু হল ‘ডিম অপারেশন’। একের পর এক ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটল দিনভর। দুই ২৪ পরগনা জেলার সামনে এল বহু ঘটনা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাকপুর: ডিম থেরাপি চলছিল। তাতেই মেতে রয়েছে বঙ্গবাসী। এবার শুরু হল ‘ডিম অপারেশন’। একের পর এক ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটল দিনভর। দুই ২৪ পরগনা জেলার সামনে এল বহু ঘটনা।
বারাসত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি দিয়ে শুরু হয় ডিম ছোড়া। পরে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তাপস দাশগুপ্তের বাড়িতে ডিম ছোড়া হয়। পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়ের ডানহাত সুজিত সাহার বাড়িতেও একই ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘চোর চোর’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান বারবার শোনা যায়। তৃণমূল নেতা তাপস দাশগুপ্ত বলেন, ‘কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তা বুঝতে পারছি না। আমরা পদত্যাগ না করায় আক্রোশ থেকে বিজেপি এটা করতে পারে।’ এদিকে, ভাঙড়ে কয়েকদিন আগে তৃণমূল নেতার দাদাগিরি, তোলাবাজি নিয়ে বাজারে পোস্টার পড়েছিল। অভিযোগ, এদিন পোলেরহাট থানার পাকা পোলবাজারে ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ খায়রুল ইসলামকে মারধরের পাশাপাশি ছোড়া হয় ডিম। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে খায়রুল খালি গায়ে পাকা পোলবাজারে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁকে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা কটূক্তি করে বলে অভিযোগ। এরপর আচমকা কয়েকজন ওই নেতাকে ডিম ছুড়ে মারে। দেওয়া হয় চোর চোর স্লোগান। তিনিও পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধে কী দুর্নীতি আছে, তার প্রমাণ দিতে বলেন। জানা গিয়েছে, খায়রুল ক্যানিং পূর্বের তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে, তোলাবাজি, ধর্ষণ, গুন্ডাগিরি, ভয় দেখিয়ে জমি ও পুকুর দখলসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া নৈহাটি যুব তৃণমূল নেতা তথা নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে জগদ্দল বিধানসভার মামুদপুর অঞ্চলে ঘোরায় শিবদাসপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যে সমস্ত পুকুর ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সেই এলাকা পরিদর্শন করানো হয়। এদিন মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রিয়াঙ্কা মালাকারের স্বামী সুরঞ্জন মালাকারকে মামুদপুর এলাকায় কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো হয়।
আবার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের সেহারা-রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরে বিজেপি নেতা বাবলু গায়েনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় ন্যাজাট থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধান দিপালী দাস একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এলাকায় কোনো কাজ না করেও টাকা তছরুপ করেছেন। সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দিপালীর দাবি, বিজেপি নেতা বাবলু গায়েন আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। বিজেপি নেতা বাবলু গাঁয়েনের বক্তব্য, পঞ্চায়েত প্রধান একাধিক দুর্নীতি করেছেন। মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাই মানুষ
পথে নেমেছে। -নিজস্ব চিত্র