সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বেসরকারি বিদ্যালয়গুলিকে নিয়ে রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমায় প্রায় পঞ্চাশের বেশি ছোটো বড়ো বেসরকারি বিদ্যালয় চলছে। যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের বৈধ কাগজপত্র নেই। ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষাদপ্তরের তরফ থেকে একের পর এক বিদ্যালয়কে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী দিন বেশ কিছু বিদ্যালয়কে জরিমানা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মহকুমা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি বিদ্যালয় গড়ে উঠতে থাকে। কোথাও কোচিং আকারে, আবার কোথাও টিউশনের মতো বিদ্যালয়গুলি চলতে থাকে। সরকারি বিদ্যালয়ের মতো সেই বেসরকারি বিদ্যালয়গুলি চললেও সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বৈধ এনওসি বা স্বীকৃতি ছাড়াই চলা ওই বিদ্যালয়গুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হচ্ছে।
একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, জেলার যে সমস্ত বিদ্যালয় শংসাপত্রহীন ও পোর্টালে তথ্য দেয়নি তাদের শোকজ নোটিস পাঠানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আগামী দুই বছর নতুন কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এনওসি দেওয়া হবে না। বর্তমানে ইউডিআইএসই ও বাংলা শিক্ষা পোর্টালে ছাত্রছাত্রীদের সঠিক তালিকা ও তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই নির্দেশ অমান্য করা ও উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকা বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে। পাশাপাশি সর্বাধিক এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ জুলাই স্কুল শিক্ষাদপ্তরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকা জেলার স্কুল পরিদর্শকদের পাঠানো হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে বেসরকারি স্কুলগুলির তথ্য যাচাই করতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শনে যেতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি জেলার বেসরকারি স্কুলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। সেখানে স্কুলগুলির বিভিন্ন বিষয়গুলি খুঁজে দেখতে হবে। যথা স্কুলের নাম, বোর্ডের অনুমোদন, ইউডাইস কোড, রাজ্য সরকারের স্বীকৃতির অবস্থা, স্কুল পরিচালনের ধরনের মতো বিষয়গুলি দেখতে হবে। পাশাপাশি স্কুলগুলি ছাত্রছাত্রী ভর্তি, শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত, শিক্ষক সংখ্যা, পরিকাঠামো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পানীয় জল, শৌচাগার, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার, খেলার মাঠ, শিশু-সুরক্ষা এবং আরটিই আইনের বিধি ইত্যাদি আছে কি না, তাও দেখতে হবে।
সরকারি বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, বেশিরভাগ বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির কোনো পরিকাঠামো নেই। অনেক পরিবার বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের পড়ায়। আবার সরকারি বিদ্যালয় ও খাতায় নাম লিখিয়ে রাখে। অন্য স্কুলে ভর্তির সময় টিসি নেওয়ার জন্য সরকারি বিদ্যালয় আসে। কারণ অধিকাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির টিসি দেওয়ার কোনো মানদণ্ড নেই। বিদ্যালয়গুলি শুধুমাত্র রোজগারের জন্য খুলে রাখা হয়েছে।
রঘুনাথপুর মহকুমার শিক্ষাদপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে প্রচুর বেসরকারি বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। সমস্তটাই শিক্ষাদপ্তরের চোখের আড়ালে। এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হতবাক হয়ে গিয়েছি।
জেলার সবচেয়ে ছোট ব্লক সাঁতুড়িতে ১১ বেসরকারি স্কুলকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাহলে শহরকেন্দ্রিক এলাকা ও বাকি এলাকাগুলির পরিসংখ্যানটা ভাবুন।