নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহালয়ার দিন শহরে মেগা আয়োজন। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রোড শো হওয়ার কথা, অন্যদিকে গ্ল্যামার আর জাকঁজমকে ভরা দশভুজার আবাহনে বিশেষ ‘আগমনি’ অনুষ্ঠান ইডেনে। ১০ অক্টোবরের ভোরেও কলকাতা-হাওড়ার পাঁচটি ঘাটে বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রাজ্য। সব মিলিয়ে একদিনেই কয়েক ঘণ্টার অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। ওইদিন ইডেন থেকেই শহরের পাঁচটি বড় পুজোর উদ্বোধন করার কথাও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। শ্রীভূমি, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা, সুরুচি ও ত্রিধারার পুজো আয়োজনের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করারও কথা। তবে বৃহস্পতিবার রাতে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন জরুরি কাজ পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কলকাতায় নাও আসতে পারেন তিনি। এশিয়ান গেমসের পদকজয়ীদের সঙ্গে ওইদিনই দিল্লিতে ‘সাক্ষাৎ’ করার কথা মোদির।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, এবার দশমীর পর দুর্গাপুজোর কার্নিভাল হবে না। তার পরিবর্তে মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্সে মেগা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে রাজ্য। সেখানে প্রায় ১০ হাজার ড্রোনের মাধ্যমে মা দুর্গার একাধিক রূপ ফুটে উঠবে আকাশে। ইডেন, রেড রোড সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার যে কোনো প্রান্ত থেকেই আকাশে দেখা যাবে ড্রোনের ডানায় অপরূপ দেবীমূর্তির নানা প্রতিচ্ছবি। ইডেনে ওইদিন প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রীর। বিকেলে রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মেগা রোড শো’র পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি হওয়ায়, মহালয়ার মেগা ইভেন্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত নাও হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
ইডেনে থাকছে শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গীতানুষ্ঠান। প্রতিটি জেলাকে নিজেদের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। পুরুলিয়ার ছৌ থেকে শুরু করে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, বাঁকুড়া সহ নানা ধরনের জেলার স্থানীয় নৃত্য প্রদর্শনী হবে ইডেনে। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার আতসবাজির প্রদর্শনী। থাকছে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নৃত্য অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ চলবে ড্রোন শো এবং আতসবাজির প্রদর্শন। ওইদিন রাতে রাজভবনে থাকবেন মোদি। পরের দিন সকালে তাঁর গঙ্গার ঘাটে যাওয়ার কথা। ১১ অক্টোবর নিউটাউনের একটি পুজোতেও যেতে পারেন মোদি। তবে সবটাই নির্ভর করছে, তাঁর শহরে এসে পৌঁছানোর উপর।
অন্যদিকে, মহালয়ার দিন সকালে গঙ্গার পাঁচ ঘাটে বিশেষ নৃত্যঅনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছে রাজ্য। বিভিন্ন ঘাটে বাজবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। বাবুঘাটের বাজেকদমতলা ঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট, মিলেনিয়াম ঘাট, কুমোরটুলি ঘাট ও হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটকে সাজিয়ে তোলা হবে সেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য। এদিকে, গোটা রেড রোড সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। গাছে গাছে ঝোলানো হয়েছে আলোক মালা। শহরজুড়ে রাস্তা মেরামতির কাজে হাত লাগিয়েছে কলকাতা পুরসভা। নতুন করে বাসন্তী রংয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে শহরকে।