Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যের ২২ জায়গায় ইডির হানা, বালির বেআইনি কারবারের তদন্ত, উদ্ধার নগদ টাকা-নথিপত্র

রাজ্যের ২২ জায়গায় ইডির হানা, বালির বেআইনি কারবারের তদন্ত, উদ্ধার নগদ টাকা-নথিপত্র
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং কলকাতা: বালির বেআইনি কারবারের তদন্তে সোমবার সকালে কলকাতা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও নদীয়ার কল্যাণী সহ মোট ২২ জায়গায় হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ভুয়ো চালানে বালি তোলা ও পাচার, কারবার থেকে উপার্জিত অর্থের বেআইনি লেনদেন নিয়ে তদন্ত করতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে হানা দিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। অভিযান পর্বে শুধু বালি কারবারিদের বাড়ি, অফিসই নয়, ইডি হানা দিয়েছিল বালি পরিবহণের কাজে যুক্ত খেজুরির এক ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীর বাড়িতেও। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বালির বেআইনি কারবার এবং সরকার নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দামে বিক্রি করা, কারবারের অর্থ অন্যত্র বিনিয়োগ করার এই চক্রে সল্টলেকের বাসিন্দা এক রিয়েল এস্টেট তথা মাইনিং কারবারির সহ ১০ জনের নাম সামনে এসেছে। বালির বেআইনি কারবারের অর্থ ওই কারবারি তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যেমন বিনিয়োগ করেছিলেন, তেমনই বিমা সংস্থাতেও লগ্নি করেছেন বলে অভিযোগ। এদিনের অভিযানে গোপীবল্লভপুরের নয়াবসান গ্রামের এক বালি কারবারির বাড়ি থেকে নগদ  ১২ লক্ষ টাকা সহ নানা নথিপত্র আটক করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযান হওয়া অন্য জায়গাতেও নথিপত্র খতিয়ে দেখেন ইডি আধিকারিকরা। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গোড়া থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন অংশে বেআইনি খাদান চালানোর অভিযোগ এবং রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি পাচারের সময় ট্রাক-লরি আটক সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা রুজু করে রাজ্য পুলিশ। সেই মামলাগুলির কপি সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে সংগ্রহ করে ইডি। এরপর গত আগস্ট মাসে নিজেরাই বালি কারবার নিয়ে মামলা রুজু করে। সেই মামলার ভিত্তিতেই এদিনের অভিযান। রাজনৈতিক মহলের খবর, রাজ্যর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রাক্কালে বালির কারবার নিয়ে ইডির এই তৎপরতা।  
ইডি এদিন হানা দেয় কলকাতার বেহালা, টালিগঞ্জ, রিজেন্ট কলোনি, নিউ টাউন এবং সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে। এছাড়াও গোপীবল্লভপুরের ১ ও ২ নম্বর ব্লকের ছ’টি জায়গা, মেদিনীপুর শহর লাগোয়া যমুনাবালি এলাকায় বেশ কয়েকটি বালি খাদানের মালিক এক ব্যবসায়ীর বাড়ি, খেজুরির জরারনগরে এক ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীর বাড়ি এবং কল্যাণীতে এক বেসরকারি সংস্থার কর্মীর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি কল্যাণীর ওই ব্যক্তি বালি কারবারেও যুক্ত। তদন্তকারীরা বলছেন, সুবর্ণরেখা, কংসাবতী সহ বিভিন্ন নদী থেকে বালি তোলার জন্য নিলাম ডাকে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন। সেই নিলামে অংশ নিয়ে কারবারিরা চালান কেটে বালি তোলে। কিন্তু যে চক্রের বিরুদ্ধে ইডির অভিযান, তারা পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে ভুয়ো চালানে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় অনেক বেশি বালি তোলে। এরফলে মার খাচ্ছে সরকারি রাজস্ব। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ