নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য পুলিশের পর এবার ইডি। প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের কাছ থেকে সোনা উদ্ধারের পর শুক্রবার কলকাতা, নিউটউন, নদীয়াসহ মোট ১২টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এর মধ্যে রয়েছেন একাধিক ব্যবসায়ী। অভিযোগ, তাঁরা সোনা চোরাচালানের কারবার করেন। পাশাপাশি হাওলা কারবারেও জড়িত। তাঁদের মাধ্যমে তৃণমূল নেতার পাঠানো নগদ, সোনায় বদলে ফেলা হয়েছে বলে জেনেছে এজেন্সি। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক নথি।
বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে মাস খানেক আগে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর কমিশনারেট। নদিয়ার তেহট্ট এলাকায় তাঁর এক বান্ধবীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিন কেজি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদও। এই সোনা ও নগদ টাকা কোথা থেকে এল, জানতে ইডি কেস রুজু করে। তারা জানতে পারে, এই সোনা এসেছে চোরাপথে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা কলকাতা থেকে পাচার হয়েছে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন জায়গায়। সেখান থেকে এসেছে সোনা। সোনার চোরাচালানে যুক্ত ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন নামে তারা অফিস খুলে বসে রয়েছে পার্ক স্ট্রিট, শেক্সপিয়র সরণি, নিউটাউনসহ বিভিন্ন এলাকায়। একাধিক ব্যবসায়ী এই কাজে জড়িত। তাঁদের সকলের ফরেন মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা রয়েছে। এই তথ্য হাতে আসার পরই ইডি শুক্রবার সকাল থেকে শেক্সপিয়র সরণি, পার্ক স্ট্রিট, খিদিরপুর, বড়বাজার, নিউটাউন, রাজারহাট সল্টলেক ও নদীয়াসহ মোট ১২টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। এরমধ্যে রয়েছে একাধিক ব্যবসায়ীর অফিস ও বাড়ি। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন, এই অফিসগুলি থেকে হাওলা ব্যবসা চলে। সব্যসাচীবাবুর কাছে যে সোনা গিয়েছে তার প্রমাণস্বরূপ বেশকিছু নথি মিলেছে। সোনার বেআইনি কারবারে জড়িত এই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তৃণমূল নেতার যোগাযোগ করিয়ে দেন সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী। প্রাক্তন এই বিধায়ক টাকা পাঠিয়ে দিতেন সল্টলেক এলাকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে। সেখান থেকে টাকা পৌঁছে যেত পার্ক স্ট্রিট, শেক্সপিয়র সরণি এলাকায় থাকা হুন্ডির অফিসে। তা পাচার হত বিদেশে। সেখান থেকে চোরাপথে আসত সোনা। এই কাজে জড়িত ব্যবসায়ীদের ডাকা হচ্ছে বলে খবর।