শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা : মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থেকে ধৃত জঙ্গি মিনারুল শেখ দেখা করেছিল জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশের ‘আমির’ সালাউদ্দিন সালেহানের সঙ্গে। জেএমবি প্রধান তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল ভাগরথীর চরে খারিজি মাদ্রাসা তৈরি ও প্রশিক্ষণের। সেই কাজও শুরু করেছিল। কিন্তু খাগড়াগড় কাণ্ডের পর সমস্ত কিছু বন্ধ হয়ে যায়। ধৃত মিনারুল শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছে অসম পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ( এসটিএফ)। বাংলাদেশে হাসিনা সরকার পতনের পর আবার এই কাজ সে শুরু করেছিল বলে জেরায় জানিয়েছে।
Advertisement
মিনারুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, সে বছর দশকের বেশি সময় ধরে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সালাউদ্দিনের। তার ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে জেএমবি’র হয়ে কাজ শুরু করে। তার সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা জেএমবি এবং আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) একাধিক শীর্ষ নেতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। মুর্শিদাবাদ সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি নেতারা তার কাছে এসে আশ্রয় নিত। তাদের জাল নথি তৈরি করে দিত। কেরলে ধরা পড়া জঙ্গি মহম্মদ শাদ শেখ ওরফে শাব শেখ বাংলাদেশে একটি ব্যাঙ্ক ডাকাতির পর মুর্শিদাবাদে পালিয়ে এসে তার কাছে আশ্রয় নেয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এখানে তার জাল আধান প্যান ও ভোটার কার্ড তৈরি করে দেয় মিনারুল। পরে এই নথি দিয়ে তৈরি হয় ভারতীয় পাসপোর্ট। দীর্ঘদিন ধরেই শাদ শেখ এখানে লুকিয়ে ছিল। মাঝে একবার বাংলাদেশে গেলেও, এবিটি প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানির নির্দেশে সে আবার ভারতে ঢুকেছিল।
ধৃত মিনারুল অসম পুলিসের এসটিএফকে জানিয়েছে, বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর সে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবিটি চিফ তাকে দায়িত্ব দেয় খারিজি মাদ্রাসা তৈরি করার। সেজন্য সে জমি কিনেছিল পদ্মার চরে। অনুমোদহীন মাদ্রাসা তৈরিতে জেএমবিতে বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত নূর ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই নিয়ে কথা বলতে মিনারুল একাধিকবার অসমে যায়। সেখানে নূরসহ অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে। তদন্তকারীরা জেনেছেন ব্রহ্মপুত্রের চরে সে খারিজি মাদ্রাসা খুলে জেহাদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিল। মুর্শিদাবাদেও এসেছিল নূর। খাগড়াগড়ে জেএমবি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের জন্য শিমুলিয়া ও মুকিমনগরের মাদ্রাসাও নূরই তৈরি করেছিল। সেই কারণে এই রাজ্য তার চেনা ছিল। পরিকল্পনা ছিল চলতি মাস থেকে মুর্শিদাবাদে খারিজি মাদ্রাসা চালু করবে নূর। কিন্তু তার আগেই সে এবং তার সহযোগীরা ধরা পড়ে যায়।
মিনারুল জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, স্লিপার সেল তৈরির জন্য সে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে মগজ ধোলাইয়ের কাজ শুরু করেছিল। টার্গেট করা হয়েছিল মুর্শিদাবাদ, মালদহ, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের যুবকদের। মুর্শিদাবাদ ও জলপাইগুড়ির ফালাকাটায় বেশ কয়েকবার বৈঠক করে গিয়েছে নূর ও তার সহযোগীরা। যাতে সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো যায় তাদের। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির ছেলেদের অসমে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। নিয়োগ শেষ হলেই এই রাজ্যে প্রশিক্ষণ শুরু হতো তাদের। কাদের নিয়োগ করেছিল তারা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
ধৃত মিনারুল অসম পুলিসের এসটিএফকে জানিয়েছে, বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর সে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবিটি চিফ তাকে দায়িত্ব দেয় খারিজি মাদ্রাসা তৈরি করার। সেজন্য সে জমি কিনেছিল পদ্মার চরে। অনুমোদহীন মাদ্রাসা তৈরিতে জেএমবিতে বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত নূর ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই নিয়ে কথা বলতে মিনারুল একাধিকবার অসমে যায়। সেখানে নূরসহ অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে। তদন্তকারীরা জেনেছেন ব্রহ্মপুত্রের চরে সে খারিজি মাদ্রাসা খুলে জেহাদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিল। মুর্শিদাবাদেও এসেছিল নূর। খাগড়াগড়ে জেএমবি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের জন্য শিমুলিয়া ও মুকিমনগরের মাদ্রাসাও নূরই তৈরি করেছিল। সেই কারণে এই রাজ্য তার চেনা ছিল। পরিকল্পনা ছিল চলতি মাস থেকে মুর্শিদাবাদে খারিজি মাদ্রাসা চালু করবে নূর। কিন্তু তার আগেই সে এবং তার সহযোগীরা ধরা পড়ে যায়।
মিনারুল জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, স্লিপার সেল তৈরির জন্য সে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে মগজ ধোলাইয়ের কাজ শুরু করেছিল। টার্গেট করা হয়েছিল মুর্শিদাবাদ, মালদহ, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের যুবকদের। মুর্শিদাবাদ ও জলপাইগুড়ির ফালাকাটায় বেশ কয়েকবার বৈঠক করে গিয়েছে নূর ও তার সহযোগীরা। যাতে সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো যায় তাদের। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির ছেলেদের অসমে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। নিয়োগ শেষ হলেই এই রাজ্যে প্রশিক্ষণ শুরু হতো তাদের। কাদের নিয়োগ করেছিল তারা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।



