Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবারও হল না জঙ্গলমহল কাপ, ক্ষোভ

এবারও হল না জঙ্গলমহল কাপ, ক্ষোভ
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: এবছরও হল না জঙ্গলমহল কাপ। এনিয়ে টানা চারবছর বন্ধ থাকল জঙ্গলমহল কাপ। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ক্রীড়াপ্রেমীরা। শেষ জঙ্গলমহল কাপ প্রতিযোগিতা হয়েছে ২০১৯-’২০ সালে। তারপর থেকে আর প্রতিযোগিতা হয়নি। গত বছর জঙ্গলমহল কাপে হবে বলে জল্পনা তৈরি হলেও তা হয়নি। এবছরও না হওয়ায় জঙ্গলমহলজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Advertisement
পাখির আওয়াজে নয়, দেড় দশক আগেও জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙত বোমা, গুলির আওয়াজে। বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে থাকত তল্লাটের বাতাস। যদিও পালাবদলের পর মাও দমনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃত্যু হয় মাওনেতা কিষেনজির। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে শুরু করে মাওবাদী ও তদানীন্তন জনসাধারণের কমিটির নেতারা। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে শান্তি ফিরতে থাকে জঙ্গলমহলে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জঙ্গলমহলের যুবক-যুবতীদের কেউ যাতে ‘বিপথে’ পরিচালিত করতে না পারে তাই পালবদলের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে শুরু হয় ‘জঙ্গলমহল কাপ’।
পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম-এই পাঁচ পুলিস জেলাকে নিয়ে জঙ্গলমহল কাপ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ফুটবল, কাবাডি, তিরন্দাজি-সহ বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতি বছর পাঁচ জেলার ৪০ হাজারের বেশি ছেলেমেয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে থাকে। কিন্তু, করোনার সময় হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় ‘জঙ্গলমহল কাপ’। তারপর থেকে আর চালু হয়নি। ২০১৭ সাল থেকে জঙ্গলমহল কাপ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সফলদের কোনও না কোনও সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি বছরই বহু ছেলেমেয়ে জেলা পুলিসের সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি পেতে থাকেন। পুরুলিয়া জেলা থেকেও বিভিন্ন ইভেন্টে বহু প্রতিযোগী চাকরি পান। চাকরির আশায় খেলার প্রতি আরও উত্সাহ বাড়তে থাকে জঙ্গলমহলের যুবকযুবতীদের। কিন্তু, গত চারবছর খেলা না হওয়ায় প্রতিযোগীরা উত্সাহ হারাচ্ছেন।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক মানছেন, চার বছর ধরে খেলা বন্ধ আছে। কেন বন্ধ আছে বলতে পারব না। তবে খেলা চালু হলে খুবই উপকৃত হবেন জঙ্গলমহলের যুবকযুবতীরা। ২০১৬-’১৭, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-’২০ সালের ‘জঙ্গলমহল কাপে’ মহিলাদের ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে জঙ্গলমহলজুড়ে সাড়া ফেলে দেয় পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী জাগরণ ক্লাব। তিন বছরে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি নিশ্চিত হয় ওই দলের ৪৫জনের। ওই ক্লাবের এক কর্তা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব তিনি যেন ফের এই প্রতিযোগিতা চালু করেন। না হলে উত্সাহ হারাবে যুবকযুবতীরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ