সংবাদদাতা, সিউড়ি: সারা দেশের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্ঘের মধ্যে এবার বীরভূমের লাভপুরের জামনা নিত্য সঙ্ঘকে অষ্টম বিএমও পুরস্কার দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের মোট পাঁচটি সঙ্ঘকে এই কেন্দ্রীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। যার মধ্যে বীরভূমের জামনা সঙ্ঘকে দেশের মধ্যে প্রথম স্থানাধিকারী হিসেবে আগামী ১৪ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ডিআরডি দপ্তরের সাফল্যে এবার জেলার মুকুটে ফের কেন্দ্রীয় পুরস্কার আসতে চলছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও বাংলার মহিলারাই দেশের সেরার পুরস্কার ছিনিয়ে আনতে চলেছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের এমএসএমই-র মাধ্যমে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের শিল্প সমিতি এবং চেম্বার অব কমার্স প্রতিনিধিত্ব করে। যা ব্যবসায়িক সদস্য সংস্থা(বিএমও) নামে পরিচিত। এই বিএমওগুলির বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রচার ও সার্বিক কাজের নিরিখে সারা বছর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পাঁচটি সঙ্ঘকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই পাঁচটির মধ্যে এরাজ্যের একমাত্র সঙ্ঘ হিসেবে জামনা নিত্য সঙ্ঘ মহিলা কো-অপারেটিভ সোসাইটিকে প্রথম স্থানাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১৪ফেব্রুয়ারি দিল্লির ভারত মণ্ডপম ভবনে ফাউন্ডেশন ফর এমএসএমই ক্লাস্টার্স (এফএমসি) এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল(সিআইটিআই)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অষ্টম বিএমও পুরস্কার এই সঙ্ঘের হাতে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের চারটি রাজ্য গুজরাত, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের মহিলারাই এই পুরস্কার পেতে চলেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় সাত-আট বছর আগে এই সঙ্ঘ নিজেদের সদস্যাদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের ঋণদানের জন্য একটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক তৈরি করে। ঋণ নিয়ে গ্রামীণ মহিলারা গাপ্পি সহ মাছ চাষ, কিচেন গার্ডেন, গবাদি পশুপালন, মাশরুম চাষ করেন। সেইসঙ্গে ঋণ নিয়ে অনেক মহিলা কাঁথাস্টিচ, হ্যান্ডলুম ও টেলারিংয়ের কাজও করেছেন। এই সঙ্ঘের মধ্যে রয়েছে ৩০৪টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। ৩১৪৩জন সদস্যা রয়েছেন। এই ব্যাঙ্ক শুরুর পর থেকে গোষ্ঠীর সদস্যাদের এখনও পর্যন্ত প্রায় আট কোটি ৯২লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে ২০২৩-’২৪ আর্থিক বছরে এই সঙ্ঘের উদ্যোগে ২৭৯টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১৯৫৩জন সদস্যাকে এক কোটি চার লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদের হারে ঋণদানের মাধ্যমে সঙ্ঘের আয় হয়েছে ছ’লক্ষ ২৯ হাজার টাকা। এই মুহূর্তে সঙ্ঘের হাতে মোট তিন কোটি ৬০লক্ষ টাকা মূলধন রয়েছে। ১০০ শতাংশ ঋণ আদায় হয়েছে। এই কেন্দ্রীয় পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে মূলত টেক্সটাইলের উপর। পরিবেশের ক্ষতি না করে বিদ্যুৎ ও জল অপচয় বন্ধ করে, ব্যবহৃত সামগ্রী পুনরায় ব্যবহারের উপযুক্ত করে তোলার বিভিন্ন কাজ করছেন মহিলারা। সঙ্ঘের সম্পাদিকা সোমা পাল ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ কনিকা দাস এবং বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত সদস্যা অনিমা দাস, রিমা খাতুন বলেন, আমরা এই সঙ্ঘের মাধ্যমে কাজ করে স্বনির্ভর হয়েছি। ঋণ নিয়ে ব্যবসার কাজে লাগিয়ে উপার্জন করছি। এই কেন্দ্রীয় পুরস্কার পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ২০১৩সালেই বাংলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা ও কাজে যে নতুন ধারা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন সেটাই হল আনন্দধারা। তিনি বারবার বলেছেন বাংলার মহিলারাই আমাদের শক্তি এবং তাঁদের মধ্যে মা দুর্গা রয়েছেন। মায়েদের জাগরণ দরকার। আজ সেই জাগরণের কারণেই জেলার এই সাফল্য। নিজস্ব চিত্র
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় সাত-আট বছর আগে এই সঙ্ঘ নিজেদের সদস্যাদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের ঋণদানের জন্য একটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক তৈরি করে। ঋণ নিয়ে গ্রামীণ মহিলারা গাপ্পি সহ মাছ চাষ, কিচেন গার্ডেন, গবাদি পশুপালন, মাশরুম চাষ করেন। সেইসঙ্গে ঋণ নিয়ে অনেক মহিলা কাঁথাস্টিচ, হ্যান্ডলুম ও টেলারিংয়ের কাজও করেছেন। এই সঙ্ঘের মধ্যে রয়েছে ৩০৪টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। ৩১৪৩জন সদস্যা রয়েছেন। এই ব্যাঙ্ক শুরুর পর থেকে গোষ্ঠীর সদস্যাদের এখনও পর্যন্ত প্রায় আট কোটি ৯২লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে ২০২৩-’২৪ আর্থিক বছরে এই সঙ্ঘের উদ্যোগে ২৭৯টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১৯৫৩জন সদস্যাকে এক কোটি চার লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদের হারে ঋণদানের মাধ্যমে সঙ্ঘের আয় হয়েছে ছ’লক্ষ ২৯ হাজার টাকা। এই মুহূর্তে সঙ্ঘের হাতে মোট তিন কোটি ৬০লক্ষ টাকা মূলধন রয়েছে। ১০০ শতাংশ ঋণ আদায় হয়েছে। এই কেন্দ্রীয় পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে মূলত টেক্সটাইলের উপর। পরিবেশের ক্ষতি না করে বিদ্যুৎ ও জল অপচয় বন্ধ করে, ব্যবহৃত সামগ্রী পুনরায় ব্যবহারের উপযুক্ত করে তোলার বিভিন্ন কাজ করছেন মহিলারা। সঙ্ঘের সম্পাদিকা সোমা পাল ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ কনিকা দাস এবং বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত সদস্যা অনিমা দাস, রিমা খাতুন বলেন, আমরা এই সঙ্ঘের মাধ্যমে কাজ করে স্বনির্ভর হয়েছি। ঋণ নিয়ে ব্যবসার কাজে লাগিয়ে উপার্জন করছি। এই কেন্দ্রীয় পুরস্কার পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ২০১৩সালেই বাংলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা ও কাজে যে নতুন ধারা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন সেটাই হল আনন্দধারা। তিনি বারবার বলেছেন বাংলার মহিলারাই আমাদের শক্তি এবং তাঁদের মধ্যে মা দুর্গা রয়েছেন। মায়েদের জাগরণ দরকার। আজ সেই জাগরণের কারণেই জেলার এই সাফল্য। নিজস্ব চিত্র



