Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

এবার কংগ্রেস-মুক্ত ‘ইন্ডিয়া’ গড়ার ডাক আম আদমি পার্টির

এবার কংগ্রেস-মুক্ত ‘ইন্ডিয়া’ গড়ার ডাক আম আদমি পার্টির
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: কংগ্রেস নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হোক বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতৃত্বের ব্যাটন। সম্প্রতি এমনই দাবি তুলেছে একাধিক শরিক দল। আর এবার কংগ্রেসকে ‘ইন্ডিয়া’ শিবির থেকেই ছেঁটে ফেলার দাবি তুলল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ।
Advertisement
লোকসভা ভোটে ছিল আপ-কংগ্রেস ‘দোস্তি’। তবু দিল্লির সাতটি আসনেই বিজেপির কাছে হারতে হয়েছিল। এবার বিধানসভা ভোটের আগে শুরু হয়েছে দু’দলের ‘কুস্তি’। আর তার জেরেই বড় ফাটল ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরে। বৃহস্পতিবার ‘ইন্ডিয়া’ শিবির থেকে কংগ্রেসকে ছেঁটে ফেলার পক্ষে সওয়াল করল কেজরিওয়ালের দল। নেপথ্যে কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেনের বিস্ফোরক মন্তব্য। দিল্লির দূষণ, নাগরিক পরিষেবা ও আইন-শৃঙ্খলার বেহাল দশা নিয়ে একদিন আগে একযোগে আপ সরকার ও কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে নিশানা করে হাত শিবির। ১২ দফা অভিযোগ সহ ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করে মাকেন বলেন, গোটা দেশে কেউ যদি প্রতারণার সম্রাট হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি কেজরিওয়াল। দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে ভর করে ক্ষমতায় এসেও দিল্লিতে জন লোকপাল গড়তে ব্যর্থ হয়েছে আপ। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ফরজিওয়াল’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এদিন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আতিশী ও আপের রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিং। তাঁদের দাবি, মাকেনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে ‘ইন্ডিয়া’ শিবির থেকে কংগ্রেসকে সরাতে শরিক দলগুলির দ্বারস্থ হবে আপ।
হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে ধরাশায়ী হওয়ার পর থেকেই ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরে কোণঠাসা হতে শুরু করেছে কংগ্রেস। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থাপ্রকাশ করেছেন অখিলেশ যাদব, শারদ পাওয়ার, লালুপ্রসাদ যাদবের মতো জোটের শীর্ষ নেতারা। এই আবহেই এদিন সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেন, দিল্লির আসন্ন ভোটে বিজেপির জয় নিশ্চিত করতে কংগ্রেস উঠেপড়ে লেগেছে। মাকেন বিজেপির লিখে দেওয়া চিত্রনাট্য পড়ছেন। বিজেপির নির্দেশে আপ নেতাদের নিশানা বানাচ্ছেন।  কংগ্রেস বা মাকেন কখনও দিল্লির কোনও বিজেপি নেতাকে দেশ বিরোধী বলেননি। কিন্তু কেজরিওয়ালকে দেশ বিরোধী বলেছেন মাকেন। লোকসভা ভোটে দিল্লি ও চণ্ডীগড়ে কংগ্রেস প্রার্থীদের হয়ে (লোকসভা ভোটে) প্রচার করেছিলেন কেজরিয়াল। সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে আপ। অথচ সেই কংগ্রেসই আমাদের নেতাকে দেশ বিরোধী বলছে। যুব কংগ্রেস তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করছে। এখানেই না থেকে সঞ্জয় সিং বলেন, হরিয়ানা ভোটে আপ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জোটের চেষ্টা করলেও কংগ্রেসের আপত্তিতেই তা ভেস্তে গিয়েছিল। কিন্তু তবু কংগ্রেস বা তাদের কোনও নেতার বিরুদ্ধে আমরা কোনও অনুচিত শব্দের ব্যবহার করিনি। কিন্তু মাকেনের ঔদ্ধত্য সব সীমা ছাড়িয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ