শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: বিকশিত ভারত জি রামজি প্রকল্পে পূর্ব মেদিনীপুরের পারফরম্যান্স ক্রমাগত নিম্নমুখী। পুজোর আগে পারফরম্যান্সের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে এই জেলা চতুর্থ স্থানে ছিল। পুজো মিটতেই সেটা আরও কয়েক ধাপ নেমে সপ্তমে চলে গিয়েছে। রাজ্যের প্রান্তিক মানুষকে বছরে ১২৫দিন কাজ দেওয়ার স্কিম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলায় ধুঁকছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরেও রয়েছে। নভেম্বর মাসের মধ্যে এই জেলাকে প্রথম তিনে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো তৎপরতা শুরু হয়েছে। শনিবার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক জেলাশাসক অফিসে এই স্কিম নিয়ে মিটিং করেছেন। তারপর আজ, সোমবার কাঁথি টাউন হল এবং মঙ্গলবার কোলাঘাটে বলাকা মঞ্চে বিকশিত ভারত জি রামজি প্রকল্প নিয়ে রিভিউ মিটিং করা হবে। সেখানে শান্তনুবাবু ছাড়াও জেলার অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক, জেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এই স্কিম বাস্তবায়নের পথে কোথায় বাধা এবং সেই বাধা কাটানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, বিকশিত ভারত জি রামজি প্রকল্পে গতি আনার লক্ষ্যে আমরা কাঁথি ও এগরা মহকুমা নিয়ে সোমবার কাঁথিতে মিটিং করব। তমলুক ও হলদিয়া মহকুমা নিয়ে মঙ্গলবার কোলাঘাটে মিটিং হবে। পুজোর আগে আমরা কর্মদিবস তৈরিতে রাজ্যে চতুর্থ স্থানে ছিলাম। তারপর মাঝামাঝি জায়গায় চলে গিয়েছি। আমাদের গতি আনতে হবে। সেইমতো পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
বিকশিত ভারত জি রামজি প্রকল্পে ২০২৬-’২৭আর্থিক বছরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১কোটি ৯৫লক্ষ ২৪হাজার কর্মদিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের কমিশনার এনিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তারপর ১ অক্টোবর এই জেলার শ্রমিকদের পেমেন্টের জন্য ৬৩ কোটি ৫২লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা তৈরি থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর সব হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি নেই। ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসাবে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থাকায় নির্বাচনি আদর্শ আচরণবিধি(এমসিসি) লাগু ছিল। যে কারণে কাজ করা যায়নি। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত অতিবৃষ্টি এবং বন্যা পরস্থিতিও অনেকটা দায়ী। পুজোর পর অর্ণব সাইক্লোনের প্রভাবে তিনদিন অতি বৃষ্টিতে ওই প্রকল্পে কাজের ব্যাঘাত হয়েছে। নভেম্বর মাসে পুরোদমে কাজ করা হবে। এজন্য প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতকে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হবে। মহকুমা শাসকদের ওই প্রকল্পে সাবডিভিশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। নানা স্কিমের সঙ্গে কনভার্জেন্স করে কর্মদিবস বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, আবাস যোজনায় যেসব উপভোক্তা দ্বিতীয় কিস্তির পেমেন্ট পেয়েছেন, তাঁদের ৯০টি কর্মদিবস বরাদ্দ করা হচ্ছে।পালাবদলের পর এরাজ্যের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে সবচেয়ে বেশি ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্তত ২০টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইস্তফা দেন। ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে প্রধান ও উপপ্রধান ইস্তফা দেওয়ায় অন্তত দেড়শো পঞ্চায়েতের বোর্ড ভেঙে যায়। এই জেলায় এখনো ১০টি পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড হয়নি। এছাড়া, অনেক গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান, উপপ্রধান নির্বাচন ঝুলে রয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে এই ডামাডোল পরিস্থিতির জন্য গ্রামসভা আয়োজন করা এবং প্রকল্প রচনা করা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে অনেক জায়গায় বোর্ড না থাকার জন্যও ১২৫দিনের প্রকল্পে পিছিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর।



