


সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: ডানপ্রান্ত থেকে বিপিন সিংয়ের ঠিকানা লেখা সেন্টার। ভুল হয়নি সুযোগসন্ধানী রশিদের। তাঁর ডান পায়ের প্লেসিং জালে জড়াতেই গর্জে উঠল কিশোর ভারতীর গ্যালারি। বিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে ফেনসিংয়ে উঠে সমর্থকদের স্পর্শ অনুভব করলেন তিনি। ভাসলেন শুভেচ্ছায়, অভিনন্দনে।
শাপমোচনের মায়াবি রাত। গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে জ্বলল গর্বের লাল-হলুদ মর্শাল। দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ভারতসেরা ইস্ট বেঙ্গল। সেই সঙ্গে প্রথমবারের জন্য আইএসএল ট্রফি জয়। বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিল অস্কার ব্রিগেড। সেই সুবাদে ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে শেষ করলেন মিগুয়েলরা। ম্যাচে লাল-হলুদ ব্রিগেডের দুই গোলদাতা ইউসেফ এজেজ্জারি আর মহম্মদ রশিদ। কাশীর হয়ে জাল কাঁপান আলফ্রেড।
প্রিয় দলের খেতাব জয়ের সাক্ষী থাকতে কিশোর ভারতীতে হাজির হয়েছিলেন প্রায় ৮ হাজার অনুরাগী। তবে মিগুয়েলদের খেতাব জয়ের পথ যে মোটেই সহজ হবে না, তা মোহন বাগানকে রুখেই প্রমাণ করেছিল ইন্টার কাশী। তাই বিপক্ষকে চাপে ফেলতে শুরুতেই গোলের জন্য ঝাঁপায় অস্কারের দল। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে দু’বার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও গোলের রাস্তা খুঁজে পাননি মিগুয়েল। মোহন বাগানের বিরুদ্ধে কাউন্টার অ্যাটাক ফুটবলে নজর কেড়েছিলেন অ্যালফ্রেড। বৃহস্পতিবার ১৪ মিনিটে তাঁর দুরন্ত গোল শ্মশানের নিস্তব্ধতা বয়ে আনে কিশোর ভারতীতে। নিজেদের অর্ধ থেকে ডেডিড মুনোজের লং বল ধরে গিলকে পরাস্ত করেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার (১-০)। প্রথমার্ধে আরও বার দুয়েক প্রতি-আক্রমণে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল কাশী। তবে দুরন্ত সেভে দলের আশা জিইয়ে রাখেন গিল। এরইমধ্যে ২৩ মিনিট সোনার সুযোগ নষ্ট করেন এজেজ্জারি।
এক গোলে পিছিয়ে দল। তারউপর প্রথমার্ধের শেষলগ্নে চোট পেয়ে মাঠ
ছাড়েন রাকিপ। তাঁ জায়গায় ডেভিডকে এনে বিরতির আগেই জোড়া স্ট্রাইকারের পথে হাঁটেন অস্কার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইস্ট বেঙ্গলকে লড়াইয়ে ফেরান এজেজ্জারি। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলে সহজেই বল জালে জড়ান এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার (১-১)। সেই সঙ্গে সোনার বুটের দৌড়ে ম্যাকলারেনের থেকে দু’গোলের লিড নেন তিনি (১১)। দল সমতায় ফিরতেই জোড়া পরিবর্তন আনেন অস্কার। বিষ্ণু ও জয় গুপ্তার জায়গায় লালচুংনুঙ্গা ও নন্দকে মাঠে নামান তিনি। ৬২ মিনিটে হঠাৎই গর্জে ওঠে কিশোর ভারতীর গ্যালারি। এক্ষেত্রে ইস্ট বেঙ্গলের স্কোরলাইনে কোনও পরিবর্তন না ঘটলেও, যুবভারতীতে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে মোহন বাগান। যা দেখে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে লাল-হলুদ অনুরাগীরা। আর মিনিট আটেক বাদেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিপিনের সেন্টার থেকে রশিদের গোল (২-১)।
ইস্ট বেঙ্গল: প্রভসুখন, রাকিপ (ডেভিড), আনোয়ার (শৌভিক), কেভিন, জয় (লালচুংনুঙ্গা), জিকসন, রশিদ, বিষ্ণু (নন্দ), মিগুয়েল, বিপিন ও এজেজ্জারি (সোয়বার্গ)।