


সৌগত গঙ্গোপাধ্যায় ও অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায় কলকাতা
মোহন বাগান-২ (মনবীর, ম্যাকলারেন)
স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি-১ (সাভিও)
গ্যালারিতে ২০ হাজার মানুষ। কিন্তু পিন ড্রপ সাইলেন্স! একটু আগেও যে গলায় গর্জন ছিল, তা এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস। কেউ মাথা নিচু করে বসে, কেউ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে — যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। কিশোর ভারতী থেকে আসা স্কোরলাইন এই মুহূর্তে গোটা যুবভারতীকে পাথর করে দিয়েছে। মোহন বাগান জিতেছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয়নি। খেতাব নিয়ে গেল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গল। দুই প্রধানের পয়েন্ট সমান হলেও (২৬) গোল পার্থক্যে বাজিমাত অস্কার ব্রিগেডের। ‘সেকেন্ড বয়’ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল মোহন বাগানকে।
বৃহস্পতিবার শুরু থেকেই অল-আউট আক্রমণে যান কোচ লোবেরা। ফরোয়ার্ড লাইনে রাখেন তিন বিদেশি ম্যাকলারেন, কামিংস ও পেত্রাতোসকে। কিন্তু তারকাখচিত আক্রমণভাগ এদিন গোল মিসের প্রদর্শনী রেখেছিলেন। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে প্রথমার্ধেই অন্তত চার-পাঁচ গোল আসত। এরমধ্যেই ১২ মিনিটে কিশোর ভারতী থেকে খবর এল, ইস্ট বেঙ্গল এক গোলে পিছিয়ে। শুনে উল্লাসে ফেটে পড়ে যুবভারতীর গ্যালারি। কিন্তু সেই উদ্দীপনাও কাজে লাগাতে ব্যর্থ ফুটবলাররা। ৪০ মিনিটে মনবীর সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন। ৪২ মিনিটে কামিংস ফাঁকা গোলেও বল জালে পাঠাতে পারলেন না। এমন ক্ষমার অযোগ্য ভুলের জন্য স্টেডিয়াম থেকেই তাঁর হাতে অস্ট্রেলিয়ার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া উচিত।
দ্বিতীয়ার্ধেও বদলাল না ম্যাচের চিত্র। ৫১ মিনিটে মনবীরের হেড বারে প্রতিহত হল। ততক্ষণে কিশোর ভারতীতে সমতায় ফিরেছে ইস্ট বেঙ্গল। আর ৬৩ মিনিটে ক্লারেন্স সাভিও ফার্নান্ডেজের হেডে জাল কাঁপতেই গ্যালারিতে শ্মশানের নিস্তব্ধতা (১-০)। তারমধ্যেই খবর— ইস্ট বেঙ্গল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে। সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মুখ ভার। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান মনবীর (১-১)। এরপর সংযোজিত সময়ে মোহন বাগানের জয় নিশ্চিত করলেন ম্যাকলারেন (২-১)। কিন্তু লাভ কিছু হল না। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই বাগান সমর্থকের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। বাড়ি ফেরার পথে শোনা গেল ‘গো ব্যাক লোবেরা’ স্লোগানও।
মোহন বাগান: বিশাল, মেহতাব, আলড্রেড (রবসন), শুভাশিস, থাপা, সাহাল (টাংরি), মনবীর, লিস্টন, দিমিত্রি (অভিষেক),কামিংস এবং ম্যাকলারেন।