শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: পিপীলিকার পাখা ওড়ে মরিবার তরে। ইস্ট বেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর অবস্থা তাই। ক্ষমতার দম্ভে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন স্প্যানিশ কোচ। ঔদ্ধত্য চরমে। কেরল ব্লাস্টার্স ম্যাচের আগে চরম বিতর্কে জড়ালেন অস্কার। শুক্রবার যুবভারতীতে সাংবাদিক সম্মেলনে ঠিক কী বললেন ব্রুজোঁ? তাঁর মন্তব্য, ‘এখন দলের টেকনিক্যালি সিদ্ধান্ত অন্যভাবে নেওয়া হয়। তাই অনেকেরই নাক গলানোর সুযোগ নেই। সমালোচনা তাঁরাই করছেন। ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যাঁরা উন্নতি দেখতে পারেন না।’ বুঝতে অসুবিধা হয় না, নাম না করে ক্লাব কর্তাদের বিঁধলেন অস্কার। এরপরেই উত্তাল ময়দান। ইস্ট বেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘কোচ পেশাদার মানুষ। আজ আছেন, কাল চলে যাবেন। তবে একটাই অনুরোধ, অভিযোগ থাকলে নির্দিষ্ট করে বলুন। প্রয়োজনে মিটিং বোর্ড মিটিং ডাকা হোক। কোম্পানির কর্তাদের এই বিষয়ে জানিয়েছি।’
আইএসএলে শেষ দু’টি ম্যাচে জয়হীন ইস্ট বেঙ্গল। আইএসএলের শুরুতে ৫ পয়েন্ট খুইয়ে ব্যাকফুটে অস্কার ব্রিগেড। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগান এবারও মগডালে। সেখানে লাল-হলুদ সমর্থকদের ধৈর্য হারানো স্বাভাবিক। শনিবার কার্যত মরণ-বাঁচন ম্যাচে কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে নামছে ইস্ট বেঙ্গল। কঠিন পরিস্থিতিতে কোচের উচিত স্ট্র্যাটেজি, ফর্মেশনে বৈচিত্র শানানো। তার বদলে ফোকাসটাই নড়িয়ে দিলেন অস্কার। ম্যান ম্যানেজমেন্ট শূন্য। বল্গাহীন অহংকার অস্কারের পতনের কারণে হতে পারে। মনে রাখতে হবে, তাঁর প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্য। শক্তিশালী দল গড়েও এখনও ট্রফিহীন সিনিয়র দল। ডুরান্ড কাপে সেমি-ফাইনালে হার। আইএফএ শিল্ড ও সুপার কাপেও খেতাব অধরা। কঠিন ম্যাচে একবগ্গা স্ট্র্যাটেজি ডাহা ফেল। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো আইএসএলে নজর ছিল সমর্থকদের। কিন্তু জামশেদপুর ও গোয়ার বিরুদ্ধে মধ্যবিত্ত কোচ অস্কারের সীমাবদ্ধতা বারবার প্রমাণিত। চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে হলে জিততেই হবে। কেরল ব্লাস্টার্স, মহমেডান স্পোর্টিং ও চেন্নাইয়ানের বিরুদ্ধে ৯ পয়েন্ট চাই। কাঁধে কাঁধ রেখে ঝাঁপানোর বদলে টিম স্পিরিটের বারোটা বাজাচ্ছেন তিনি। শনিবার যুবভারতীতে পান থেকে চুন খসলে আগুন জ্বলতে পারে।
কেরল ব্লাস্টার্স তেমন ওজনদার নয়। আদ্রিয়ান লুনা, নোয়া সাদিউরা দল ছেড়েছেন। টানা ৪ ম্যাচে হেরে ঠকঠকিয়ে কাঁপছে তারা। তবুও মরণ কামড় দিতে চান কোচ ডেভিড কাতালা। বললেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল সহজে পার পাবে না।’ অন্যদিকে, প্রথম দল নিয়ে ধোঁয়াশা রাখলেন অস্কার। ৪-৫-১ ফর্মেশনে মিগুয়েল দলের ইঞ্জিন। বুদ্ধিমান কোচেরা মিগুয়েলকে মার্ক করছেন। ব্যস ওখানেই অস্কারের জারিজুরি শেষ। কেরল কোচ সম্ভবত দানিশ ফারুখকে দিয়ে ব্রাজিলিয়ানকে বোতলবন্দি করতে চাইবেন। জাল কেটে কীভাবে মিগুয়েল ডানা মেলেন তার উপর অনেককিছু নির্ভরশীল। লেফট উইং ব্যাকে বিষ্ণুকে খেলানোর সম্ভাবনাও ডালপালা মেলছে। একমাত্র ফুটবলারদের তাগিদই ইস্ট বেঙ্গলকে বদলাতে পারে। রোদ, জল, বৃষ্টিতে মাঠে আসা সমর্থকদের কথা স্মরণ করে মশালবাহিনী কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?