


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: অনেক ঢাক পিটিয়েও শুক্রবার ডিওয়াইএফের উত্তরকন্যা অভিযান কার্যত ফ্লপ। টানা দেড় মাস প্রচার চালিয়েও মিছিলের জন্য এক হাজার কর্মী সমর্থকও জোগাড় করতে ব্যর্থ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। যুব কর্মীদের মিছিলে দেখা গেল দার্জিলিং জেলা সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশকে। মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যার আগেই আটকে দেওয়া হয় মিছিল। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিস জলকামান ব্যবহার করে, টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায়। অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করায় সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ ৩০ জননেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিস। পরে রাতে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জলপাইমোড় থেকে জাতীয় সড়ক ধরে এশিয়ান হাইওয়ের দিকে মিছিল যায়। নৌকাঘাট মোড় ও তিনবাত্তি তিস্তা ব্যারেজ অফিসের সামনে পুলিস ব্যারিকেড করে। এরজেরে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এমনকী ক্যান্সার আক্রান্তকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও আটকে যায়। এনিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন রোগীর পরিজনরা। অগত্যা অনেকেই বাস, অটো থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
যদিও সংগঠনের পাল্টা দাবি, বেকারত্ব মেটানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। তবে পুলিস একাধিক রাস্তা আটকে শহরে ঢুকতেই দেয়নি। তা নাহলে প্রচুর নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ এই মিছিলে অংশ নিতেন। কর্মসূচি শুরুর আগে যুব সংগঠনের নেত্রী মীনাক্ষী ভাষণে বলেন, আমাদের আন্দোলনে ভয় পেয়ে গিয়েছে প্রশাসন, পুলিস ও শাসকদলের নেতারা। সেই কারণেই আটকাতে এত বিপুল ব্যবস্থা। তবে কাজের দাবিতে আন্দোলন চলবেই।
এদিন বেকার বিরোধী দিবসে সকলের কাজের দাবিতে ‘উত্তরকন্যা চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফ। জলপাইমোড়ে জমায়েত করে সেখান থেকে মিছিল করার ডাক দেয় তারা। সেই মোতাবেক পুলিসি ব্যবস্থাও ছিল। ৩টের পর মিছিল শুরু হয়। মিছিল নৌকাঘাট মোড়ের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় তিনবাত্তির দিকে। সেখানে পুলিস বাধা দিলে রাস্তাতেই প্রথমে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন ডিওয়াইএফ নেতা-কর্মীরা। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিস প্রথমে জলকামান চালায়। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়, মৃদু লাঠিচার্জও করে। মীনাক্ষী সহ ৩০জন কর্মী সমর্থককে আটক করে ভ্যানে তোলে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি(পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আইনঅমান্য করায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সিপিএমের যুব সংগঠনের এই কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে চায়নিতৃণমূল। দলের দার্জিলিং জেলা (সমতল) মুখপাত্র বেদব্রত দত্ত বলেন,ওদের কোনও জনসমর্থন নেই। ফলে আন্দোলনেও যে জোর থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক।