Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুলটির জলকষ্টে দায়ী ডিভিসি, বিঁধল সেইল

গেরুয়া শিবিরের যাবতীয় অজুহাত উড়িয়ে কুলটির জলকষ্টে সরাসরি ডিভিসিকে দায়ী করল সেইল

কুলটির জলকষ্টে দায়ী  ডিভিসি, বিঁধল সেইল
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলটি: গেরুয়া শিবিরের যাবতীয় অজুহাত উড়িয়ে কুলটির জলকষ্টে সরাসরি ডিভিসিকে দায়ী করল সেইল। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে জল সংকটের প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করলেন সেইলের এক্সিকিউভিট ডিরেক্টর (গ্রোথ ওয়ার্কস) অনিল কুমার। তাতে তিনি আগাগোড়াই বিঁধেছেন ডিভিসিকে। তিনি বলেন, ‘কুলটি সেইল গ্রোথ ওয়ার্কসের জন্য প্রতি মাসে ১১৬ মিলিয়ন গ্যালন জল বরাদ্দ ছিল। ডিভিসি হঠাৎই একতরফা জলের কোটা কমিয়ে মাত্র ৪৩ মিলিয়ন গ্যালন স্থির করে। সেই কারণেই শহরে জল পরিষেবা নিয়ে সংকট তৈরি হয়। ডিসেম্বর মাসে নদীর জলস্তরও অত্যন্ত নেমে গিয়েছিল। সেই জলও আমরা তুলতে পারিনি।’ 

Advertisement

অনিল কুমার এদিন বলেন, ‘২০২৩ সালে হঠাৎই জ঩লের জন্য বিশাল বিল পাঠিয়ে দেয় ডিভিসি। আমরা অতিরিক্ত তিন-চারটি ফ্লোটিং পাম্প বসিয়ে জল সংগ্রহ করছি। এছাড়া স্থায়ী সমস্যা মেটানোর জন্য নদীর তলদেশে তিনটি বোর ওয়েল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার দিয়ে কাজও শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের জেরে তা করা সম্ভব হয়নি।’ যদিও সেইলের অভিযোগ মানতে চায়নি ডিভিসি। সংস্থার মাইথনের প্রজেক্ট হেড সুমনপ্রসাদ সিং বলেন, ‘আমরা কারও জলের কোটা এভাবে কমাই না। কোনও সংস্থা নিজে থেকে জলের কোটা কমানোর আর্জি করলে তখনই কমানো হয়। এই অভিযোগ ঠিক নয়।’ 
গত বছর ডিসেম্বর মাসে চরম জলকষ্টের মুখোমুখি হয় কুলটি। এখানেই রয়েছে সেইলের সর্ববৃহৎ কারখানা। বহু দশক ধরে শহরের বিস্তীর্ণ অংশে জল সরবরাহ করে আসছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, হঠাৎই তাঁরা জল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয় কারখানার গেটের সামনে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দু’পক্ষই পৃথক পৃথক আন্দোলন করে। বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় জেলাশাসককে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ক্ষোভ কিছুটা কমে। কিন্তু ভরা বর্ষাতেও কুলটির মানুষ পর্যাপ্ত পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছেন না। এদিন সেইলের আধিকারিকের কাছে প্রশ্ন করা হয় কেন এখনও দিনে মাত্র কুড়ি মিনিট জল দেওয়া হচ্ছে? জল সরবরাহ করতে সমস্যা কোথায়? তখনই পরিসংখ্যান দিয়ে জলের কেন সমস্যা, তা তুলে ধরেন সেইল কর্তা অনিল কুমার। সেইলের পক্ষ থেকে এটাও দাবি করা হয় ডিভিসিকে জলের বিল বাবদ ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। 
কুলটির জল সমস্যা রাজনৈতিক ময়দানে বড় ইস্যু। ২০১৬ সালে খোদ মুখ্যমন্ত্রী জনসভা করতে এসে কুলটির জলসংকট মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর কথায় ভরসা রেখে কুলটি থেকে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে জয়ী করেন মানুষ। নতুন জল প্রকল্পও পায় কুলটি। তারপরও কুলটির জলসংকট মেটেনি। ২০২১ সালে এই আসনে জয়লাভ করে বিজেপি প্রার্থী অজয় পোদ্দার। ক’দিন আগে জলসংকট নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি। পুরসভাকে পর্যাপ্ত জল না দেওয়ার জন্য তীব্র আক্রমণ করেন। এদিন বিজেপির ফানুস ফুটো করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরই। আসানসোল পুরসভার মেয়র পরিষদ সদস্য ইন্দ্রানী মিশ্র বলেন, ‘বিজেপির জেতা এলাকায় কেন কেন্দ্রীয় বঞ্চনা? উত্তর দিন গেরুয়া শিবিরের নেতারা।’ বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার বলেন, ‘পুরসভা কেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকায় জল প্রকল্প করতে পারল না।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ