Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষাতে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে চূর্ণী নদীর সেতুর উপর পথ যেন মৃত্যুফাঁদ

নিম্নমানের জাতীয় সড়ক! মাত্র দ্বিতীয় বর্ষাতেই বেহাল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক।

বর্ষাতে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে চূর্ণী নদীর সেতুর উপর পথ যেন মৃত্যুফাঁদ
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: নিম্নমানের জাতীয় সড়ক! মাত্র দ্বিতীয় বর্ষাতেই বেহাল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। কোথাও বিরাট ছোটখাটো ডোবার মতো গর্ত, তো কোথাও ছোট-মাঝারি খানাখন্দ মিলিয়ে নদীয়ার মাঝবরাবর হয়ে উত্তরমুখী চলে যাওয়া সড়কটি জায়গায় জায়গায় যেন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। কোথাও আবার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হওয়া সত্ত্বেও নেই আলোর ব্যবস্থা। ফলে অন্ধকার নামলেই রাস্তা যেন হয়ে উঠছে সাক্ষাৎ যমদূত। 

Advertisement

২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে তড়িঘড়ি চালু করা হয়েছিল জাগুলি থেকে রানাঘাট-কৃষ্ণনগর হয়ে উত্তরবঙ্গগামী জাতীয় সড়কটি। যদিও প্রথম থেকেই তার নকশায় একাধিক গলদের কারণে অভিযোগ উঠতে থাকে। কোথাও উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থার অভাব, তো কোথাও নিম্নমানের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এবার বর্ষার মাঝেই জাতীয় সড়কের নিম্নমানের কাজ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কল্যাণী মোড় থেকে রানাঘাট পর্যন্ত জায়গায় জায়গায়  দেখা পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। দুরন্ত গতিতে থাকা গাড়ির চাকা আচমকা তাতে পড়ে মাঝেমধ্যেই বেসামাল হচ্ছে। সবচেয়ে করুন দশা চোখে পড়েছে, রানাঘাট শহরের উপর চূর্ণী নদীর সেতুতে। ছোট-বড় গর্ত ভরে গিয়েছে ব্রিজের উপরের অংশ। বৃষ্টিতে জল জমে সেগুলি মৃত্যুকূপে পরিণত হচ্ছে। সমস্যা দ্বিগুণ হচ্ছে রাত নামলেই। কারণ নিয়ম অনুযায়ী ব্রিজের উপর পর্যাপ্ত আলো থাকার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম। ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকারের কারণে জায়গাটি আরও বিপদজনক হয়ে উঠছে। লরিচালক রাধেশ্যাম প্রসাদ বলেন, আমাদের লরির বড় চাকা তাই সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু ছোট গাড়ি এই অন্ধকারে কোনও গর্তে পড়লে বড়সড় বিপদ ঘটবেই। অ্যাম্বুলেন্স চালক হরিপদ বিশ্বাস বলেন, আমাকে রোজই শান্তিপুর-কৃষ্ণনগর থেকে রোগী নিয়ে জেএনএম অথবা এইমসে যেতে হয়। কিন্তু চূর্ণী সেতুতে রাস্তার যা অবস্থা তাতে কোনওদিন গাড়িই না উল্টে যায়। অনেক সময় রোগীদের তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে গেলে আমাদের একটু জোরেই গাড়ি চালাতে হয়। বর্তমানে রাস্তায় যা বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, তাতে অসুস্থ হয়ে পড়বে। এখন নিম্নমানের কাজ বোধহয় আমি আর কোথাও দেখিনি। 
  বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজাও। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ভোট পেতে কোনওমতে কাজ শেষ করে জাতীয় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। একেবারে নিম্নমানের কাজ।  না হলে জাতীয় সড়কের মত একটি রাস্তা কখনও সামান্য বর্ষাতে এরকমভাবে ধুয়ে যেতে পারে? বিজেপির নদীয়া দক্ষিন সংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, শহরের রাস্তাগুলোর কী দুরবস্থা সেটা বোধহয় শাসক দল দেখতে পাচ্ছে না। জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে গাড়ির চাপ আর পাড়াগুলোর রাস্তার চাপ কী এক?
এদিকে, জায়গায় জায়গায় রাস্তার এই দুরবস্থা নিয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রজেক্ট ডিরেক্টর অমিত কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। তাঁর মোবাইলে মেসেজ পাঠানো হলেও জবাব দেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ