Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভ্যাকসিনের অভাবে উত্তাল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল

সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কঙ্কালসার রূপ ফের একবার প্রকাশ্যে এল। বিড়াল, কুকুর কিংবা সাপের কামড়ের মতো অত্যন্ত জরুরি ও জীবনদায়ী ভ্যাকসিন মিলছে না সরকারি হাসপাতালে।

ভ্যাকসিনের অভাবে উত্তাল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কঙ্কালসার রূপ ফের একবার প্রকাশ্যে এল। বিড়াল, কুকুর কিংবা সাপের কামড়ের মতো অত্যন্ত জরুরি ও জীবনদায়ী ভ্যাকসিন মিলছে না সরকারি হাসপাতালে। এই চরম গাফিলতির অভিযোগে সোমবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বর। ক্ষোভে ফেটে পড়ে হাসপাতালের মূল ফটক আটকে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখালেন রোগীর আত্মীয়রা। দীর্ঘক্ষণ চলা এই অবরোধের জেরে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে পড়ে। চরম ভোগান্তির শিকার হন অন্যান্য রোগীরাও। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। 

Advertisement

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য হিংস্র জীবজন্তুর কামড়ের পর চিকিৎসকদের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠান্ডা মাথায় জানিয়ে দিচ্ছে, ‘ভ্যাকসিন মজুত নেই’। কোনো আগাম নোটিস না থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম হয়রান করা হচ্ছে। গরিব রোগীদের হয় খালি হাতে ফিরে প্রাণ সংশয়ে ভুগতে হচ্ছে, না হলে চড়া দামে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে পকেট ফাঁকা হচ্ছে। এরই পাশাপাশি হাসপাতালের একাংশ কর্মী ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন ভুক্তভোগীরা।
বিক্ষোভকারী কবিতা বাগদি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, একবার নয়, বারবার আমাদের এই একই হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। সময়মতো ভ্যাকসিন না পেলে রোগীর প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছে, সেটা কি ডাক্তাররা বোঝেন না? অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।
অন্যদিকে এই নজিরবিহীন অব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালের সুপার ডাঃ ধীমান মণ্ডল পরোক্ষে পরিকাঠামোগত খামতি কার্যত স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘ভ্যাকসিন সরবরাহ কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই সময়মতো সব রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’ উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত আশ্বাসের পর, প্রায় এক ঘণ্টা বাদে ঘেরাও মুক্ত হয় হাসপাতাল। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ