Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইন্ডিয়া গেটে আলোর খেলা, অন্নপূর্ণার সংসার, সংকল্প থেকে মুখোশ! দক্ষিণেশ্বর ও আড়িয়াদহে থিমের বাহার

ইন্ডিয়া গেটে ভারতীয় সেনার বীরত্ব, পুরনোকে হারাতে না দেওয়ার সংকল্প, মুখোশের অন্তরালে মায়ের আগমন, বাঙালি হেঁসেলে মা অন্নপূর্ণার মতো নানা থিমে সেজে উঠেছে দক্ষিণেশ্বর ও আড়িয়াদহের বিভিন্ন মণ্ডপ।

ইন্ডিয়া গেটে আলোর খেলা, অন্নপূর্ণার সংসার, সংকল্প থেকে মুখোশ! দক্ষিণেশ্বর ও আড়িয়াদহে থিমের বাহার
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ইন্ডিয়া গেটে ভারতীয় সেনার বীরত্ব, পুরনোকে হারাতে না দেওয়ার সংকল্প, মুখোশের অন্তরালে মায়ের আগমন, বাঙালি হেঁসেলে মা অন্নপূর্ণার মতো নানা থিমে সেজে উঠেছে দক্ষিণেশ্বর ও আড়িয়াদহের বিভিন্ন মণ্ডপ। সাবেকি রূপের পাশাপাশি থিমের সাজেও সেজে উঠেছেন জগজ্জননী। সিঁথির পুজো মণ্ডপ সেজে উঠেছে পুজোর একাল ও সেকালের মাঙ্গলিক চিহ্নে।

Advertisement

দক্ষিণেশ্বর ডোমেস্টিক এরিয়া দুর্গাপুজো ও কালীপুজো কমিটির পুজো এবার ৭৭ বছরে পা দিয়েছে। মা অন্নপূর্ণার থিমে সেজে উঠেছে মণ্ডপ। হেঁসেলের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। মণ্ডপে ঢোকার মুখে উনুনের উপর রয়েছে বিশলাকার হাঁড়ি ও কড়াই। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়বে থালা, বাসন, হাতা, খুন্তি দিয়ে সাজানো একের পর এক দেওয়াল। তার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে কৌটো ভর্তি জিরে, ধনে, শুকনো লংকা, হলুদ সহ নানা মশলা। মূল মণ্ডপ দেখে ফিরে যেতে হবে স্মৃতির মানসপটে। কড়ি বর্গার রান্না ঘর। সেখানে সপরিবারে হাজির উমা। তবে অসুর বিনাশের মতো রনংদেহী মূর্তিতে নয়, মা এখানে এসেছেন আটপৌড়ে শাড়ি পরে অন্নপূর্ণার রূপে। একহাতে খাবারের  থালা অন্য হাতে হাতা নিয়ে বসে রয়েছেন তিনি। পাশে মহাদেব থালা নিয়ে দাঁড়িয়ে। দু’পাশে থালা হাতে বসে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। সবার মুখে প্রশস্তির হাসি। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অরিন্দম ভৌমিক ও অয়ন চক্রবর্তী বলেন, দেশেজুড়ে মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। আচ্ছে দিন শুধু নামেই। হতদরিদ্র মানুষ আধপেটা খেয়ে রাতে ঘুমোতে বাধ্য হচ্ছেন। মায়ের কাছে আমাদের আকুতি, অন্নপূর্ণা রূপে তিনি জগৎবাসীকে যেন খাদ্যে সংকট থেকে বের করে আনেন। সংসারের প্রত্যেক মাকে সম্মান জানাতে আস্ত হেঁসেলের আদলে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। 
৩৯ বছরে পা দেওয়া মিতালি সংঘের থিম ইন্ডিয়া গেট। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু গেট। লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শোয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে ভারতীয় সেনার আত্ম বলিদানের ইতিহাস। আলোর কারিকুরিতে মণ্ডপ রাঙিয়ে উঠবে জাতীয় পতাকার রংয়ে। মণ্ডপের সামনে থাকা এলইডি স্ক্রিনে ভারতীয় সেনাকে সম্মান জানিয়ে দেখানো হবে পাঁচ মিনিটের বিশেষ ভিডিও শো। মা আসবেন সাবেকি সাজে। ১২ ফুটের লম্বা প্রতিমা দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা অর্ঘ্য রায় বলেন, দেশমাতৃকাকে সুরক্ষা দিতে পাহাড়, জল ও জঙ্গলে দিবারাত্র লড়াই করছে ভারতীয় সেনা। তাঁদের সম্মান জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আড়িয়াদহ মিলনী পরিচালিত সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবার ৪৬ বছরে পা দিয়েছে। থিম মুখোশের অন্তরালে মায়ের আগমন। আফ্রিকার জনজাতিদের জীবনযাপন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপে। মা আসছেন থিমের সাজে। পুজো কমিটির কর্মকর্তা সৈকত দাস বলেন, মণ্ডপ ও মায়ের সাজ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে। 
আড়িয়াদহ যুবক সংঘ পরিচালিত সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবার ৮২ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম সংকল্প। হারিয়ে যাওয়া পুতুল, পটচিত্র, হেঁসেলের জ্বালানি কাঠ দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপ। মা আসছেন সাবেকি সাজে। পুজো কমিটির সম্পাদক অনুপম মুখোপাধ্যায় বলেন, পুজো মণ্ডপের সামনে স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। সেটি তৈরি করা হয়েছে পাড়ার বর্ষীয়ান ও দেশের বিশিষ্টদের স্মৃতিতে। আমাদের পুরনো ঐতিহ্য ও স্মৃতি আমরা হারাতে দেব না। এই ভাবনা থেকেই থিম সংকল্প। 
আড়িয়াদহ প্রগতি সংঘের পুজো এবার ৮৬ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম জাতীয় পাখি ময়ূর। মণ্ডপে ঢোকার মুখে চোখে পড়বে বিশালাকার ময়ূর। তার বাহারি পেখমে ঢাকা থাকবে সারা মণ্ডপ। মা আসছেন সাবেকি সাজে। পুজো কমিটির সম্পাদক সৌভিক চক্রবর্তী বলেন, ময়ূরের থিমে সেজে উঠছে মণ্ডপ। 
সিঁথি অগ্রগামী ক্লাবের দুর্গাপুজো এবার ৭৫ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম চিহ্ন। বিভিন্ন মাঙ্গলিক চিহ্ন দিয়ে সেজে উঠেছে মণ্ডপ। মা আসছেন সাবেকি সাজে। শিল্পী পার্থ দাস বলেন, রামচন্দ্র অকাল বোধনের সময় যে রীতি রেওয়াজে পুজো করেছিলেন, পরবর্তী সময়ের পুরোহিতরা সেই নিয়ম যথাসম্ভব অক্ষরে অক্ষরে পালন করে নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের পুজো করেন। এই শুদ্ধাচার ও নিষ্ঠা কয়েকটি চিহ্নের মাধ্যমে বোঝানো হয়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সেই চিহ্নে বদল এসেছে। যুগের সঙ্গে পালটেছে সংকেত। সেই যুগ আর বর্তমানে পাল্টে যাওয়া সাংকেতিক চিহ্ন নিয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ