বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: সাত ভাইয়ের মিলিত আরাধনা হল বিষ্ণুপুরের ভাসার উত্তরবাগীর রায়পাড়ার নস্করবাড়ির দুর্গাপুজো। যদিও পরিবারের কেউ কেউ ও পড়শিরা এটিকে ‘সাত ভাই ও চম্পা’র পুজো বলে মনে করে। কারণ নস্কর পরিবারের ১০৭ বছরের মহামায়াদেবীর সাত ছেলে এবং এক মেয়ে। সাত ভাই চম্পার মতো তাঁদের সম্পর্ক। পুজোর প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে মহামায়া নস্করের মতামত নিতে হয়। তিনি পুজোর দালানে বসে নজরদারি করেন। এটাই নস্কর বাড়ির অলিখিত নিয়ম। বিশাল এলাকা নিয়ে বাড়ি। সেখানে দুর্গাপুজোর ঠাকুরদালান রয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও পটুয়ার কাছ থেকে একচালার সেগুন কাঠের কাঠামোর উপর তৈরি সাবেকি প্রতিমা আসছে। তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। নিয়ম ও সময় মেনে ঘড়ির কাঁটা ধরে প্রতিদিন পুজো হয়। নস্কর বাড়ির পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হল, পুজোর ক’দিন নবগ্রহ হোম। যদিও করোনার পর থেকে এখন শুধু নবমীর দিন এই হোম হয়। তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে হোম চলে। তিনজন পুরোহিত হোম করেন। তাতে ১০ কিলো খাঁটি গাওয়া ঘি, ২৫ কেজি বেল কাঠ, ১ কেজি চন্দন কাঠ লাগে। এছাড়া হোমে আহুতি দিতে বেলপাতা, যজ্ঞডুমুর সহ ৯ রকমের ফল, ফুল লাগে। পাতা লাগে প্রচুর পরিমাণ। দীপ জ্বালানোর জন্য সাত কেজি ওজনের বিশাল লম্বা ও মোটা মোমবাতি লাগে। নস্কর বাড়ির সদস্য দীনেশ নস্কর বলেন, একসময় এই পুজো বেহালাতে আমার এক মেসোমশাই শুরু করেছিলেন। সেই সময় পুজোর যাবতীয় জোগান দিতে হত আমাকে। পরবর্তী সময় আমাদের গ্রামের তিন বন্ধু মিলে বাড়ির বাইরে পুজোটা করি। পাঁচবছর পর সেই পুজো আমাদের বাড়িতে নিয়ে চলে আসি। মা থেকে দাদা এবং পাড়া পড়শিরা সায় দিয়েছিল। বাড়িতে পুজো চলছে ১২ বছর হল। পুজোর ক’দিন মায়ের পুজোয় কোনো দিন সাত কোনো দিন আট বা ৯ রকমের ভাজাসহ বিভিন্ন পদ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। মায়ের শাড়ি প্রতিদিন নতুন। সবমিলিয়ে ২০টা শাড়ি কিনতে হয়। পুজোর সময় আত্মীয় ও পরিজন মিলিয়ে প্রতিদিন তিনশো জনের পাত পড়ে। রান্নার জন্য আলাদা ঠাকুর আসে। খাওয়া-দাওয়ার জন্য ঘিরে আলাদা জায়গা করা হয়। একদশীর পর প্রতিমার নিরঞ্জন হয়। সেদিন সকলের মুখ মিষ্টির জন্য ১০ কেজি দুধের একটি বিশেষ সিদ্ধি তৈরি হয়। তাতে সম পরিমান দই, ১০০ কলা দেওয়া হয়। এতে নেশা হয় না। এছাড়া ৩০ কেজি আলুর দম, ১৫ কেজি মুড়ি এবং মিষ্টি, ক্ষীরের ভোগ বিলি হয়।



