নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ভিলেন প্রতিকূল আবহাওয়া। তবু উত্তরবঙ্গে জমজমাট রবিবাসরীয় পুজোর বাজার। কোথাও বাজারে হিট ডিজিটাল পোশাক। আবার কোথাও গোল্ড প্লেটেড গয়নার চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীরা অব্যশ্য বলেন, পুজোর কেনাকাটা এখনও জমেনি। তবে কিছুদিনের মধ্যে জমবে।
এদিন শিলিগুড়িতে চলে রোদ-বৃষ্টির খেলা। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে দু’বার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর বৃষ্টি না হলেও আকাশ ছিল মেঘলা। তা হলেও শহরের বিধান মার্কেট, শেঠ শ্রীলাল মার্কেট, হিলকার্ট রোড, বিধান রোড বাজার, জংশন মার্কেট, হকার্স কর্নার, এসজেডিএ মার্কেট সর্বত্র ক্রেতারা ভিড় করেন। যারমধ্যে পোশাক, জুতো, মেয়েদের সাজসজ্জা, গোল্ডপ্লেটেড জুয়েলারি দোকান প্রভৃতিতে ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। বর্ধমান রোড, সেভক রোড সহ বিভিন্ন শপিংমলেও ছিল ভিড়।
বিধান মার্কেটে একটি পোশাকের দোকানে কেনাকাটার ফাঁকে সঞ্চিতা রায় নামে এক গৃহবধূ বলেন, তিন সপ্তাহ পরেই পুজো। তাই সাপ্তাহিক এই ছুটির দিনে বাড়ির বাচ্চাদের পোশাক কেনাকাটা করছি। বৃষ্টির আশঙ্কা করে ছাতা সঙ্গে নিয়ে এসেছি।
হিলকার্ট রোডে একটি গোল্ডপ্লেটেড জুয়েলারি দোকানে আসা এক মহিলা বলেন, সোনার দাম আকাশছোঁয়া। তাই পুজোয় জেল্লা দিতে সোনার জলে ধোওয়া গয়না কিনছি। হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সনৎ ভৌমিক বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন বাজারে সামান্য ভিড় বেড়েছে। তবে, ব্যবসা-বাণিজ্য এখনও জমেনি। অধিকাংশই বাজার ঘুরে পোশাক, সাজ্জার উপকরণ দেখে যাচ্ছেন।
এবার পুজোয় জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়ি বাজার মাতাচ্ছে মেয়েদের আধুনিক পোশাক ডিজিটাল থ্রি পিস। এটা মুম্বই থেকে আমদানি। এই পোশাক থ্রি কোয়ার্টার ও স্লিভ লেস দু’ধরনের পাওয়া যাচ্ছে। আলো পড়লেই বদলে যাবে রং। এছাড়া, রঙ্গিলা চুড়িদার ঘিরে মেয়েদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে। বিক্রি হচ্ছে ব্যাগি জিন্স, কটন কার্গো। এদিন জলপাইগুড়ির দিনবাজার মার্কেট ও কদমতলা শপিংমল ঘুরে এমন তথ্য মিলেছে।
ওই মার্কেট ও শপিংমলে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। শহরে চলা খাদি মেলাতে শান্তিপুরের হ্যান্ডলুম, মুর্শিদাবাদের সিল্ক, বাঁকুড়ার বালুচরি বিক্রি হচ্ছে। শহরের একাধিক জায়গায় চলছে বুটিকের প্রদর্শনী। জলপাইগুড়ি দিনবাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিলীপ শা অবশ্য বলেন, বৃষ্টিতে কিছুটা ছন্দপতন হচ্ছে। এখনও পুজোর বাজার পুরোপুরি জমেনি। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার পুজোর বাজারের ছবিটাও ছিল একই। বৃষ্টি হলেও আলিপুরদুয়ার শহরের শপিংমল ও কাপড়ের দোকানগুলিতে কিছুটা ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আলিপুরদুয়ার চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণেই পুজোর বাজার সেভাবে জমেনি। আশা করছি আবহাওয়া একটু ভালো হলে পুজোর কেনাকাটা জমবে।