Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের তিন নাতনির মঙ্গল কামনায় রায়বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু

২৭৫ বছর আগে আনুমানিক ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণনগরের রায়বাড়িতে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজোর। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পুত্রবধূ রানি ভবানীর উদ্যোগেই শুরু হয়েছিল এই পুজো।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের তিন নাতনির মঙ্গল কামনায় রায়বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: ২৭৫ বছর আগে আনুমানিক ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণনগরের রায়বাড়িতে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজোর। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পুত্রবধূ রানি ভবানীর উদ্যোগেই শুরু হয়েছিল এই পুজো। রায় পরিবারেই বিয়ে হয়েছিল রানি ভবানীর তিন মেয়ের। মেয়েদের কল্যাণ কামনাতেই তিনি রায়বাড়িতে পুজো করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই পুজো সমস্ত নিয়মনীতি, আচার মেনে আজও হয়ে চলেছে। এখানকার পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হল, এখানে বাড়ির বধূদের নামে পুজোর সংকল্প হয়। বাড়ির ছেলেদের নামে নয়। তিন মেয়ের মঙ্গলকামনায় রানি ভবানী এই পুজো শুরু করেছিলেন। তাই এই রীতি। 

Advertisement

রায় পরিবার সূত্রে জানা যায়, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের দ্বিতীয় পুত্র ভৈরবচন্দ্রের তিন মেয়ের বিয়ে হয় রায়বাড়িতে। ভৈরবচন্দ্রের স্ত্রী ছিলেন ভবানী দেবী। তিনি মাঝেমধ্যেই রায়বাড়িতে এসে মেয়েদের সঙ্গে বসবাস করতেন। মেয়েদের মঙ্গল কামনায় তিনি কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির প্রথা, আচার রীতি মেনে রায়বাড়িতে পুজো শুরু করেন। পুজোর তিনদিন চালকুমড়ো বলি হয়। আগে পাঁঠাবলি হতো। বলির মাটি নিয়ে কাদা খেলাও হতো। কিন্তু এখন সেসব বন্ধ। মায়ের রূপ অনেকটা কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির মতোই। আগে রাজবাড়িতে কামান দাগা হলে সেই শব্দ শুনে রায়বাড়িতে সন্ধিপুজো শুরু হতো। বিসর্জনের সময়ে মাকে বিশেষ ভাবে বেঁধে কাঁধে করে দুলিয়ে দুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। রাজবাড়ির আর রায়বাড়ির ঠাকুর মুখোমুখি হতো বিসর্জনের সময়ে। দুই পরিবারের দুই পুরোহিতের একে অপরকে পুজো করার চল ছিল। বিসর্জন হতো ঠিক সূর্যাস্তের মুহূর্তে।
রায় পরিবারের এক সদস্য ওঙ্কার রায় বলেন, উল্টোরথের দিন কাঠামো পুজো করে আমাদের পুজোর সূচনা হয়। মহালয়ার দিন প্রথম সাদা রঙের আস্তরণ পড়ে মায়ের মূর্তিতে। আমাদের পুজো হয় শাক্ত মতে। তাই প্রতিদিন মায়ের ভোগে মাছ থাকে। দশমীর দিন পান্তা ভোগ দেওয়া হয়, তাতেও মাছ থাকে। সপ্তমীর দিন মধ্যরাতে মাকে চামুণ্ডারূপে পুজো করা হয়। ইদানীং পরিবারের অনেকে বাইরে থিতু হওয়ায় প্রতিবছর আসতে পারেন না। এতে লোকবল কিছুটা কমেছে। কিন্তু পুজোর জৌলুস কমেনি। রায় পরিবারের গৃহবধূ পত্রিকা রায় বলেন, আমাদের মায়ের সম্পূর্ণ সাজ মাটির, এমনকী চুলও মাটির। তবে কার্তিক এবং গণেশের বস্ত্র রাজবাড়িতে মাটির হলেও, আমাদের বাড়িতে ধুতি পরানো হয়। দশমীর দিন বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ বধূ বেনারসি শাড়ি পরে মুখে পান দিয়ে মাকে বরণ করেন।  আশেপাশের অনেকে আসেন মাকে বরণ করতে ও সিঁদুর খেলতে। রানি ভবানীর হাত ধরে শুরু হওয়া রায়বাড়ির দুর্গাপুজো আজ কৃষ্ণনগরের গর্ব। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে আজও রীতিনীতি অক্ষুণ্ণ রেখে এই পুজো হয়ে চলেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ