সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: নবাবী আমল থেকে চলে আসা শ্যামনগরের ‘বড় বাড়ির’ দুর্গাপুজো ৩৩২ বছরে পড়ল। পুজোয় দেওয়া হয় ইলিশ মাছের ভোগ। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে ইলিশ মাছ দেওয়া হয় মাকে। দশমীতে দেওয়া হয় পান্তাভোগ। পুজো হয় তন্ত্র মতে। জন্মাষ্টমীতে বাঁশ পুজো করে পুজোর সূচনা হয়, সেই বাঁশ দিয়েই তৈরি হয় মায়ের কাঠামো। বাড়ির এই প্রতিমা ছিল একচালা, ডাকের সাজ। বর্তমানে তার কিছু পরিবর্তন হয়েছে কারিগর পরিবর্তনের কারণে, কিন্তু পিছনের চালচিত্রটি সেই সময় থেকেই ত্রিচালা ত্রিকোণ আকৃতির। এখন প্রতিমা বাইরে তৈরি হয়। পঞ্চমীর দিন বাড়িতে আনা হয় প্রতিমা। দশভুজাকে পুজোর ক’দিন সাবেকি আমলের গয়না পরানো হয়। পুজোর পাঁচদিন চলে পঞ্চ উপাচারে দেবীর আরাধনা। কিন্তু সন্ধিপুজো ও নবমীর পুজো হয় ষোড়শ উপাচারে। আগে সপ্তমী, অষ্টমী ও মহানবমীতে পাঁঠা বলি হতো, বর্তমানে চাল কুমড়ো, আখ বলি হয়। এছাড়া প্রতিদিনই মা দুর্গাকে সাদা ভাত, দু’রকমের মাছ, খিচুড়ি, পঞ্চব্যঞ্জনের ভোগ দেওয়া হয়। বাড়ির পুকুর থেকে মাছ ধরে মা’কে দেওয়া হয়। পুজোর দিনগুলিতে বাড়ির ছেলেমেয়েরা সকলেই আয়োজনে হাত দেয়।



