Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শ্যামনগরের বড় বাড়ির দুর্গাপুজো ৩৩২ বছরে পড়ল, দেওয়া হয় ইলিশ ভোগ

নবাবী আমল থেকে চলে আসা শ্যামনগরের ‘বড় বাড়ির’ দুর্গাপুজো ৩৩২ বছরে পড়ল। পুজোয় দেওয়া হয় ইলিশ মাছের ভোগ।

শ্যামনগরের বড় বাড়ির দুর্গাপুজো  ৩৩২ বছরে পড়ল, দেওয়া হয় ইলিশ ভোগ
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: নবাবী আমল থেকে চলে আসা শ্যামনগরের ‘বড় বাড়ির’ দুর্গাপুজো ৩৩২ বছরে পড়ল। পুজোয় দেওয়া হয় ইলিশ মাছের ভোগ। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে ইলিশ মাছ দেওয়া হয় মাকে। দশমীতে দেওয়া হয় পান্তাভোগ। পুজো হয় তন্ত্র মতে। জন্মাষ্টমীতে বাঁশ পুজো করে পুজোর সূচনা হয়, সেই বাঁশ দিয়েই তৈরি হয় মায়ের কাঠামো। বাড়ির এই প্রতিমা ছিল একচালা, ডাকের সাজ। বর্তমানে তার কিছু পরিবর্তন হয়েছে কারিগর পরিবর্তনের কারণে, কিন্তু পিছনের চালচিত্রটি সেই সময় থেকেই ত্রিচালা ত্রিকোণ আকৃতির। এখন প্রতিমা বাইরে তৈরি হয়। পঞ্চমীর দিন বাড়িতে আনা হয় প্রতিমা। দশভুজাকে পুজোর ক’দিন সাবেকি আমলের গয়না পরানো হয়। পুজোর পাঁচদিন চলে পঞ্চ উপাচারে দেবীর আরাধনা। কিন্তু সন্ধিপুজো ও নবমীর পুজো হয় ষোড়শ উপাচারে। আগে সপ্তমী, অষ্টমী ও মহানবমীতে পাঁঠা বলি হতো, বর্তমানে চাল কুমড়ো, আখ বলি হয়। এছাড়া প্রতিদিনই মা দুর্গাকে সাদা ভাত, দু’রকমের মাছ, খিচুড়ি, পঞ্চব্যঞ্জনের ভোগ দেওয়া হয়। বাড়ির পুকুর থেকে মাছ ধরে মা’কে দেওয়া হয়। পুজোর দিনগুলিতে বাড়ির ছেলেমেয়েরা সকলেই আয়োজনে হাত দেয়।  

Advertisement

একসময় পুজোর ক’দিন মন্দিরের সামনে বাঁধানো মঞ্চে সন্ধ্যায় দুর্গা দালানে দেবী দুর্গার সামনেই বসত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসর। প্রথিতযশা শিল্পীরাও সংগীত পরিবেশন করেছেন একমসময়। সেই মঞ্চের এখন ভগ্ন দশা। পুজোর ক’দিন বড় বাড়ির সমস্ত শরিকরা আসেন এবং ভক্তি সহকারে চলে দেবী দুর্গার আরাধনা। বর্তমানে পাড়া পড়শি, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব সবাই যোগ দেন এই প্রাচীন পুজোয়। অষ্টমীর দিন সকলে মাছ ভোগ গ্রহণ করেন।
 দশমীতে বিসর্জন। এই বাড়ির অন্যতম সদস্য দেবব্রত ভট্টাচার্য বলেন, এ বছরে আমাদের পুজো ৩৩২ বছরে পড়ল। এলাকায় বড় বাড়ির পুজো বলেই পরিচিত। এখন আত্মীয়-স্বজনরা কলকাতা, বারাকপুর বিভিন্ন জায়গায় থাকেন। পুজোর সময় চলে আসেন। কার্যত মিলন উৎসব। ষষ্ঠী বাদে আমাদের রোজই আমিষ ভোগ হয়। এই পারিবারিক বাৎসরিক পুজোর আয়োজনে আমাদের পরিবারের ১৮০ জন সদস্য যুক্ত আছেন। জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ