Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরসূরির স্ত্রীর মৃত্যু, এবছর বন্ধ কাশীপুর রাজবাড়ির উমা আরাধনা

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এবারে কাশীপুর রাজবাড়িতে দুর্গাপুজো হচ্ছে না। কারণ রাজবাড়িতে অশৌচ। রাজকন্যা মহেশ্বরী দেবীর পুত্রবধূ বীরাঙ্গনা দেওরা রাজাওয়াতের (৪৮) মৃত্যু হওয়ায় পুজো হবে না।

উত্তরসূরির স্ত্রীর মৃত্যু, এবছর বন্ধ কাশীপুর রাজবাড়ির উমা আরাধনা
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এবারে কাশীপুর রাজবাড়িতে দুর্গাপুজো হচ্ছে না। কারণ রাজবাড়িতে অশৌচ। রাজকন্যা মহেশ্বরী দেবীর পুত্রবধূ বীরাঙ্গনা দেওরা রাজাওয়াতের (৪৮) মৃত্যু হওয়ায় পুজো হবে না। মহেশ্বরী দেবীর তত্ত্বাবধানে  তাঁর ছেলে আনসুল রাজাওয়াত পুজোর আয়োজন করে থাকেন। তাঁরই স্ত্রী বীরাঙ্গনা। 

Advertisement

ফলে পর্যটকদের জন্য এবছর রাজবাড়ির দরজা বন্ধ থাকছে। দুর্গাপুজার ছুটিতে ঘুরতে গিয়ে রাজবাড়ি এবং পুজো দর্শন করার সুযোগ না থাকায় হতাশ স্থানীয় মানুষরাও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশীপুর রাজবাড়িতে পাঁচদিনের মূর্তি পূজা হয়। 
 কাশীপুর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, প্রতিবছর রাজবাড়ির দরজা সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকে। পুজো দেখতে প্রচুর ভিড় জমে। পুজো উপলক্ষ্যে রাজবাড়ির বাইরের মাঠে মেলা বসে। এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রচুর টাকা রোজগার করে। শুধু তাই নয় পার্কিং জোন থেকেই এলাকার মানুষ লক্ষাধিক টাকা রোজগার করে। শুধু রাজ প্রাসাদ দেখতে বাঁকুড়া, আসানসোল, ঝাড়গ্রাম সহ বিহার, ঝাড়খণ্ডের মানুষরা আসেন। পুজোর সময়ে যে সব পর্যটকরা জেলায় ঘুরতে আসেন তাঁদেরও প্রথম পছন্দ কাশীপুর রাজবাড়ি। কিন্তু এবছর সেই সুযোগ আর থাকছে না। ফলে সকলে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
রাজ পরিবারের উত্তরসূরী আনসুলবাবু বলেন, ৫৪ বছর আগে ১৯৭২ সালে শেষ রাজা ভুবনেশ্বরী প্রসাদ সিংদেও মারা গিয়েছিলেন। সেই বছর দুর্গাপুজা বন্ধ রাখা হয়। সেই বংশের রাজকন্যা আমার মা মহেশ্বরী দেবী। ফলে মায়ের তত্ত্বাবধানে আমরাই পুজোর আয়োজন করে থাকি। এবছর আমার স্ত্রী মারা গিয়েছেন। তাই রাজবাড়িতে পুজো হবে না। কাশীপুরে নিয়ম মেনে স্ত্রীর সৎকার্য করা হচ্ছে।
রাজবাড়িতে পুজো না হওয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় বিষাদের সুর নেমে এসেছে। কারণ বছরেই একটি সময়ে রাজবাড়ির ভিতর দেখার সুযোগ হয় মানুষের। কিন্তু এবছর সেই সুযোগ আর থাকছে না। এলাকার যুবক মনিদীপ্ত অগ্নিহোত্রী, পার্থ ফৌজদার বলেন, পুজোর চারদিন সাধারণের জন্য রাজবাড়ির দরজা খুলে দেওয়া হতো। এবার সেটাও বন্ধ। পুরুলিয়াবাসীর পুজো পরিক্রমা কাশীপুর রাজবাড়ি ছাড়া অসম্পূর্ণ। সেই স্বাদ থেকে বঞ্চিত হল পুরুলিয়া জেলা সহ পাশাপাশি জেলার মানুষরাও। খুবেই খারাপ লাগছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ