


সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের প্রেস কনফারেন্স রুমে ঢুকতেই কিবু ভিকুনার মুখে তৃপ্তির হাসি। ডায়মন্ডহারবারের কোচ হিসেবে অতীতেও অনেক সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন তিনি। তখন তাঁর কথা শুনতে হাজির থাকত হাতে গোনা কয়েকজন। কিন্তু শুক্রবার পুরো অন্য ছবি। ঘরে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধেয়ে আসছে একের পর এক প্রশ্নবাণ। স্বপ্নের উত্থান বোধহয় একেই বলে! ২০২০ সালে পথ চলা শুরু ডায়মন্ডহারবারের। আর বছর পাঁচেকের মধ্যেই ডুরান্ড কাপ ফাইনাল খেলা। তা’ও আবার অভিষেক মরশুমেই। শনিবার ফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে হারাতে পারলে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে কিবু ভিকুনার দলের নাম।
কাজটা যদিও সহজ হবে না। প্রতিপক্ষ যে গতবারের চ্যাম্পিয়ন! নর্থইস্টে আবার আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো রয়েছেন আলেদাইন আজারেই। মরক্কান এই ফরোয়ার্ডের তেজ অতীতে একাধিকবার টের পেয়েছেন মোহন বাগান, ইস্ট বেঙ্গল। গত বছর ডুরান্ড ফাইনালেও মোহন বাগানের জাল কাঁপিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে না রুখতে পারলে দুঃখ রয়েছে জবি জাস্টিনদের কপালে। আরও ভালোভাবে বললে, শনিবার ডুরান্ড কাপ ও ডায়মন্ডহারবারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আলেদাইন। তবে কিবুর শিবিরের স্লোগান ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী।’
খেলাটা যখন ফুটবল, তখন কোনওকিছুই অসম্ভব নয়। কে ভেবেছিল গ্রুপ পর্বে মোহন বাগানের কাছে পাঁচ গোলের মালা পরার পর ঘুরে দাঁড়াবে ডায়মন্ডহারবার? ডার্বি জেতা ইস্ট বেঙ্গলকে ছিটকে দেবে কিবুর দল? তাই নর্থইস্টে যতই আলেদাইন থাক, কিবুর ডায়মন্ডহারবারের কাছে রয়েছে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার অদম্য জেদ। শুক্রবার চূড়ান্ত মহড়াতেও তার আঁচ পাওয়া গেল। শুরুতেই খেলোয়াড়দের তৈরি বৃত্তে পেপ টক হেড স্যারের। তারপর একাধিক দলে ভাগ করে লুকা মাচেনদের ছোট ছোট পাস খেলালেন। সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে জোর দিলেন ‘কুইক কাউন্টার অ্যাটাকে’। ধারেভারে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকা নর্থইস্টের বিরুদ্ধে রক্ষণ সামলে প্রতি-আক্রমণে গোল তুলে নেওয়াই লক্ষ্য থাকবে জবিদের। আর কোচের আস্থার মর্যাদা রাখতে ফুটবলাররাও তৈরি। আক্রমণভাগে প্রধান ভরসা লুকা মাচেনের সঙ্গে একাধিকবার আলাদা করে কথা বললেন কিবু ভিকুনা। পাশাপাশি গত ম্যাচে গোল করে জবি জাস্টিনেরও আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তবে হোলিচরণ নার্জারির হাল্কা চোট রয়েছে। তাই শনিবার লেফট উইংয়ে খেলবেন সম্ভবত গিরিক খোসলা। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিতে তৈরি স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কোর্তাজার। সেমি-ফাইনালের সেরা ফুটবলার গোলরক্ষক মিরশাদ মিচুও ছন্দ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।
পক্ষান্তরে, টানা দ্বিতীয়বার ডুরান্ড জিততে বদ্ধপরিকর নর্থইস্ট। আক্রমণভাগে তাদের প্রধান অস্ত্র অবশ্যই আলেদাইন। এছাড়া পার্থিব ও সাম্পেরিওরাও নিয়মিত গোল পাচ্ছেন। রক্ষণভাগকে ভরসা দিতে রয়েছেন অভিজ্ঞ স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জাবাকো। পাশাপাশি ধুরন্ধর কোচ পেড্রো বেনালির কথা ভুললে চলবে না। মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে কিবুকে হারাতেই কলকাতায় পা রেখেছেন তিনি।
যুবভারতীতে খেলা শুরু বিকেল ৫-৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার সোনি স্পোর্টসে।