Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পালাবদলের জট, কলকাতায় দিশা হারাচ্ছে পুর-পরিষেবা!

কোথাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ। কোথাও নতুন জলপ্রকল্প থেকে শুরু করে পানীয় জলের সরবরাহের জন্য তৈরি হওয়া বুস্টার পাম্পিং স্টেশন বা নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ গতি হারিয়েছে।

পালাবদলের জট, কলকাতায় দিশা হারাচ্ছে পুর-পরিষেবা!
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোথাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ। কোথাও নতুন জলপ্রকল্প থেকে শুরু করে পানীয় জলের সরবরাহের জন্য তৈরি হওয়া বুস্টার পাম্পিং স্টেশন বা নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ গতি হারিয়েছে। ঠিকাদারদের পেমেন্ট মেটানো যাচ্ছে না। ফলে অনেকাংশে কাজ থমকে গিয়েছে। আবার মেয়র পরিষদের বৈঠক না হওয়ায় আটকে গিয়েছে অন্যান্য কাজও। সামনেই বর্ষা মরশুম। ফলে রাস্তায় কোথাও জঞ্জাল জমে গালিপিট বা ম্যানহোল আটকে গেলে জমা জলে দুর্ভোগ বাড়বে। তাই নোংরা-আবর্জনা যাতে রাস্তায় পড়ে না থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। অথচ প্রস্তুতি বৈঠক এখনও পর্যন্ত হয়নি। সব মিলিয়ে রাজ্যে পালাবদলের জেরে কলকাতা পুরসভায় তৈরি হয়েছে জট। যা কাটার দিশা দেখা যাচ্ছে না বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। ফলে, গতি হারিয়েছে নাগরিক পরিষেবা। মেয়র এবং পুর কমিশনারের ‘দূরত্ব’ আরও জটিল করে তুলেছে সার্বিক পরিস্থিতি। এই অবস্থায় রাজ্যে পালাবদলের পর সোমবার প্রথম মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডের সাক্ষাৎ হয়েছে। মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট দু’জন আলাদা বৈঠক করেছেন। কথা হয়েছে। কিন্তু কাজ হবে তো? জটিলতা কাটবে তো? ‘দূরত্ব’ ঘুচিয়ে কি সহযোগিতা-সমন্বয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? চলছে সেই চর্চা।

Advertisement

সোমবার মেয়র পরিষদের বৈঠক আগেই বাতিল হয়েছিল। কিন্তু, এদিন মেয়র পারিষদদের ডেকেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই বৈঠকের ফাঁকে পুর কমিশনারের সঙ্গেও কিছুক্ষণ কথা হয় মেয়রের। সূত্রের খবর, মেয়র কমিশনারকে মেয়র পরিষদের বৈঠকের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। সামনেই বর্ষা মরশুম। ১০ জুন থেকে বর্ষা ঢুকছে শহরে। অন্যান্য বছর মে মাসে বর্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক হয় পুরসভায়। কিন্তু চলতি বছর তা এখনও হয়নি। ফিরহাদ হাকিম পুর কমিশনারকে সেই বৈঠক করার কথা বলেছেন। জঞ্জাল অপসারণ থেকে শুরু করে নানাবিধ পুর পরিষেবা সামলাতে মেয়র, মেয়র পারিষদ এবং পুর কমিশনারের সমন্বয় জরুরি। এই বিষয়টিও নিয়েও ফিরহাদ-স্মিতা কথা হয়েছে। কমিশনারও খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসবেন বলে মেয়রকে জানিয়েছেন। 
অন্যদিকে, মেয়র পারিষদদের নিয়ে নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন মেয়র। বৈঠকে মেয়র জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত তৃণমূল পরিচালিত এই পুর-বোর্ড রয়েছে, সরকার বোর্ড ভাঙছে না, ততদিন নাগরিক-পরিষেবা চালিয়ে যেতে হবে। পুর কমিশনারকেও এই বার্তা দিয়েছেন মেয়র। তবে এভাবে কমিশনার অসহযোগিতা চালিয়ে যেতে থাকলে কীভাবে বোর্ড চালানো সম্ভব বা সেক্ষেত্রে মেয়রের কী ক্ষমতা রয়েছে, সেই আইনি দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকী প্রয়োজনে মেয়র ও মেয়র পারিষদের স্বাক্ষরিত চিঠিও সরকারিভাবে পুর কমিশনারকে পাঠানো হবে কি না, সেটাও বিবেচনায় রয়েছে পুর-বোর্ডের। 
এদিকে, এই টানাপোড়নের জেরে ধাক্কা খাচ্ছে পরিষেবা। পুরসভার আধিকারিকদের দাবি, এমন অনিশ্চয়তা কোনোদিন হয়নি। রাজ্য সরকার বিল পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক জায়গাতেই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ আটকে গিয়েছে। অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মাইনের ফাইল ছাড়া হবে কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন বিষয়ের ফাইল কমিশনারের ঘরে পড়ে থাকছে বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতি পুরসভায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ