Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেন্দ্রের টালবাহানা, জলের সংযোগ থেকে বঞ্চিত রাজ্যের ৫০ লক্ষ পরিবার

বাজেটে মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার পরও ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদন দিতে এক বছরের বেশি সময় লাগিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্রের টালবাহানা, জলের সংযোগ থেকে বঞ্চিত রাজ্যের ৫০ লক্ষ পরিবার
  • ১২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বাজেটে মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার পরও ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদন দিতে এক বছরের বেশি সময় লাগিয়েছে কেন্দ্র। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মঙ্গলবার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। রাজ্য প্রশাসনের হিসাব বলছে, এক বছর ধরে কেন্দ্রের এই টালবাহানার কারণে জোর ধাক্কা খেয়েছে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ। কারণ, সঠিক সময়ে এই মেয়াদ বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিগত দেড় বছরে আরও অন্তত ৫০ লক্ষ বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হত বলে মনে করছে তারা। 

Advertisement

২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট চালু হওয়া ‘জল জীবন মিশন’-এর মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের মার্চে। এই সময়কালে দেশের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও মার্চ মাসের পর থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কেন্দ্র। তার ১১ মাস পর বাজেটে এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কিন্তু পরবর্তী এক বছরেও আর্থিক অনুমোদন না দেওয়ায় ঘোষণার কোনো সুফল পায়নি রাজ্যগুলি। এই অবস্থায় মঙ্গলবার আচমকাই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তবে টাকা না পাওয়া পর্যন্ত প্রকল্পে গতি আসার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না রাজ্য। কারণ, এই প্রকল্পের ৫০ শতাংশ টাকা দেওয়ার কথা কেন্দ্রের। 
এ রাজ্যে ১ কোটি ৬০ লক্ষের বেশি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ লক্ষের বেশি বাড়িতে সংযোগ দিয়েছে রাজ্য। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় প্রায় এক বছর পর (২০২০ সালের জুলাই মাসে) বাংলায় শুরু হয় এই প্রকল্পের কাজ। রাজ্যে কেন্দ্রের টাকা আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে। অর্থাৎ, ২০২৪-২৫ সালের শেষ সাত মাসে এবং গোটা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষজুড়ে টাকাই পায়নি রাজ্য। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হলেও হয় মাত্র ১০ লক্ষ। তবে এই কাজও সম্ভব হয়েছে কেন্দ্রের তুলনায় রাজ্য আড়াই হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করায়। এমনটাই দাবি প্রশাসনিক মহলের। আবার ২০২৫-২৬ সালে অন্তত ৩০ লক্ষ সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও মাত্র দেড় লক্ষে আটকে যেতে হয়েছে রাজ্যকে। কেন্দ্র টাকা বন্ধ করায় কাজ হয়নি। এক্ষেত্রে যে রাজ্যের সদিচ্ছার কোনো অভাব ছিল না, তা বোঝাতে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে তারা। রাজ্যের দাবি, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সর্বাধিক ২৪ লক্ষ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তার পরের বছরগুলিতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারত এবং বাংলা প্রকল্প সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যেত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ