সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কে খোদ বিজেপি বিধায়কের রক্ত টানছেন একজন গাড়ির চালক। তিনি আবার স্বাস্থ্যদপ্তরেরই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। পূর্ব পরিচিতির সূত্রে বিধায়কেই নাকি তাঁকে ডেকেছিলেন বলে দাবি ওই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর। যদিও নিজে থেকে তাঁকে ডাকার তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন শাসকদলের বিধায়ক। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, অবসরপ্রাপ্ত গাড়ি চালক হলেও অন্য অনেকের চেয়ে তিনি ভালো কাজ করেন। কর্মী সংকটের কারণেই এমনটা হয়েছে বলে দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের। যদিও বিধায়কের মতো হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কি পরিস্থিতি হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
গত ২ নভেম্বর জয়পুরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতর জন্মদিন ছিল। ওইদিন মন্ত্রী এবং বিধায়কদের সঙ্গে সার্কিট হাউসে কেক কেটে জন্মদিন পালনের পাশাপাশি অনুগামীদের সঙ্গে নিয়েও কেক কাটেন তিনি। সেই ফাঁকেই জন্মদিনে রক্ত দান করার জন্য পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কেও যান। সেখানেই তাঁর হাতে সিরিঞ্জ ঢোকানো থেকে রক্ত নেওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করেন সদর হাসপাতালেরই প্রাক্তন গাড়ি চালক ফলারী মাহাত। রক্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করে হাসি মুখে তাঁদের ছবি তুলতেও দেখা যায়। গাড়ি চালকের ব্লাড ব্যাঙ্কের অবাধ বিচরণ থেকে শুরু করে ওই সময় ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা কোথায় ছিলেন? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। ফলারীবাবুকে এবিষয়ে ফোন করা হলেও তাঁর ফোন অন্য একজন ধরেন। ফলারীবাবুর ফোনে অপর ব্যক্তি বলেন, উনি বাইরে আছেন। মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলারীবাবু সরকারি কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন। পরে তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে পুনরায় নিয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেনি। এবিষয়ে অবশ্য খোদ বিধায়ক বিশ্বজিৎবাবু দায় দাপিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষের ওপরেই। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে কে রক্ত টানার ব্যবস্থা করবেন বা অন্য কাজ করবেন তা দেখার দায়িত্ব তো মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের। নিজে কিভাবে জানব, কে কাজ করছেন,আর কে করছেন না। বিধায়ক আরও বলেন, ফলারীবাবুকে দীর্ঘদিন ধরেই ব্লাড ব্যাঙ্কে কাজ করতে দেখেছি। উনি এদিন প্রথম এই কাজ করলেন এমনটাও নয়। তাছাড়া রক্ত দান শিবির গুলিতেও তো ব্লাড ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে উনি যান। উনি তো আর লুকিয়ে কিছু করেননি। এবিষয়ে কলেজের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী বলেন, সরকারি কর্মীর সংকট তো রয়েছেই। ব্লাড ব্যাঙ্কেও কর্মী সংকট আছে। তিনি আরও বলেন, যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর কথা বলা হচ্ছে তিনি অন্য নতুন কোনও কর্মীর থেকেও ভালো রক্ত টানেন। তাই কাকে দিয়ে কি কাজ হবে সেটা আমাদের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র



