Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬

বাংলায় ভোটার বাদের চক্রান্ত, নেপথ্যে গেরুয়া চাপ? সুপ্রিম কোর্টেও মিথ্যাচার কমিশনের

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনায় জেরবার বাংলার আম জনতা।

বাংলায় ভোটার বাদের চক্রান্ত, নেপথ্যে গেরুয়া চাপ? সুপ্রিম কোর্টেও মিথ্যাচার কমিশনের
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনায় জেরবার বাংলার আম জনতা। যত দিন যাচ্ছে, জনগণের দুর্ভোগের খতিয়ান তত দীর্ঘ হচ্ছে। এর মধ্যেই এবার সুপ্রিম কোর্টেও মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠল কমিশনের বিরুদ্ধে। কী সেই মিথ্যাচার? সন্দেহজনক বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ নিয়ে তৃণমূলের দায়ের করা মামলায় শীর্ষ আদালতে কমিশন দাবি করেছিল, দায়িত্বপ্রাপ্ত ইআরও-রা (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুনানির নোটিস ইস্যু করছেন। যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখার পরই তাঁরা স্বাক্ষর করে ওই নোটিস পাঠাচ্ছেন। নিজে থেকে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো নোটিস জেনারেট হচ্ছে না।’ বাস্তবে কিন্তু এমনটা হচ্ছে না! সূত্রের খবর, সফটওয়্যারের মাধ্যমেই জেনারেট হচ্ছে শুনানির নোটিস। তারপর সেগুলি পৌঁছে যাচ্ছে ইআরওদের কাছে। সংশ্লিষ্ট ইআরও তাতে শুধু স্বাক্ষর করছেন মাত্র। তারপর শুনানির নোটিস ধরানো হচ্ছে ভোটারকে। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে ফলাও করে যে দাবি করেছিল কমিশন, কার্যক্ষেত্রে হচ্ছে তার উলটো। নোটিস ইস্যু নিয়ে বাস্তবে ইআরওদের হাতে কিছুই নেই।

Advertisement

এখানেই প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টে লিখিতভাবে দাবি করার পরও কোন অদৃশ্য কারণে ইআরওদের এড়িয়ে সফটওয়্যারের মাধ্যমে শুনানির নোটিস জেনারেট করা হচ্ছে? তাহলে কি গেরুয়া চাপে বাংলায় বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ দিতেই এই পদক্ষেপ কমিশনের? বাংলায় অনুপ্রবেশের তত্ত্ব খাড়া করে বিজেপি যেভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে, তাতে এমন সন্দেহ অমূলক নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, খতিয়ে দেখা তো দূরের কথা, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার নোটিসে স্রেফ স্বাক্ষরই করছেন ইআরওরা।‌ অধিকাংশ ইআরও দাবি করছেন, সন্দেহজনক ভোটারদের ক্ষেত্রে কমিশন যে নিয়ম করেছে, তাতে কোনো নোটিস খতিয়ে দেখার ক্ষমতা তাঁদের দেওয়া হয়নি। অথচ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে যাবতীয় ক্ষমতা ইআরওদের হাতেই ন্যস্ত। বাস্তবে সেটাই যদি হত, তাহলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে ভুগতেন না। যেসব ক্ষেত্রে ভোটারের নিজের বা বাবার নামের বানানে ভুল থাকায় ২০০২-এর তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং হয়নি, তাঁদের সমস্যাগুলি বুথস্তরেই মিটিয়ে ফেলা যেত। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে তা করা হচ্ছে না।

সদ্য প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা সর্বাধিক। এরপরই রয়েছে সীমান্ত লাগোয়া উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহ। মুর্শিদাবাদে মোট সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা ১৬ লক্ষ ৭২ হাজার। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংখ্যাটা প্রায় ১৫ লক্ষ। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনায় রয়েছেন ১১ লক্ষ সন্দেহজনক ভোটার। অর্থাৎ, সংখ্যালঘু প্রভাবিত জেলাগুলোতেই যে সন্দেহজনক ভোটার বেশি। এই সূত্রেই তৃণমূল সহ রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, তাহলে কি টার্গেট আগে থেকেই ঠিক করা? মুসলিম ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের তত্ত্বকে মান্যতা দিতেই সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু প্রভাবিত জেলায় বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন ভোটার চিহ্নিত করা হল? সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের মিথ্যাচারও কি সেই কারণেই?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ