সংবাদদাতা, বহরমপুর: জুলাই মাস শেষ হতে চললেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে এবার আমন চাষ কিছুটা ধীর গতিতেই চলছে। বহু জমির পাট কাটা না হওয়ায় সেইসব জমিতে এখনও আমন চাষ শুরুই হয়নি। জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৩০-৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোওয়ার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে কান্দি মহকুমায় আমন চাষ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। বাগরি এলাকায় চাষ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। কৃষি দপ্তরের দাবি, আমন চাষের সময় পেরিয়ে যায়নি। কৃষি দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর(উন্নয়ন) উৎপল মণ্ডল বলেন, চাষিরা আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ধান রোওয়ার কাজ করতে পারেন। তাতে কোনো ক্ষতি হবেনা। ২-৫ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি ধর্তব্যের মধ্যেই পড়েনা। বহু পাটের জমিতে আমন চাষ হয়। পাট তোলার পরই সেসব জমিতে চাষ শুরু হয়। আমন চাষে কান্দি মহকুমা এগিয়ে রয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়।গত মরসুমে অতি মাত্রায় বৃষ্টি হওয়ায় চাষিরা অনেক আগেই জমিতে নামতে পেরেছিলেন। আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহেই জেলার সিংহভাগ জমিতে ধান রোওয়া হয়ে গিয়েছিল। এবার জুন মাস পর্যন্ত ৩৮-৪০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। জুলাই মাসে বৃষ্টির ঘাটতি ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে কান্দি মহকুমার চাষিরা বৃষ্টির উপর নির্ভর না করেই শ্যালো বা সাবমার্সিবল চালিয়ে জমিতে চাষ দিতে শুরু করেছিলেন। বড়ঞা ব্লকের বহু চাষি ইতিমধ্যে আমনের জমির নিরানের কাজও সেরে ফেলেছেন। গোপালনগরের নীলমাধব পাল বলেন, জমিতে নিরান দিয়ে ইউরিয়া ছিটিয়েছি। গাছের রঙেরও ভালো পরিবর্তন এসেছে। যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে তাতে জমিতে আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
তবে ভাগীরথীর পূর্ব পাড়ে বাগরি এলাকার চাষিরা পাট কেটেই সেই জমিতে আমন চাষ করেন। এবার পাটে জাঁক দেওয়ার জলের অভাবে বহু চাষি পাট কাটতে জমিতে নামতে পারেননি। দিন কয়েক আগে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পাট কাটায় যথেষ্ট গতি এসেছে। পাট তুলে অনেক জমিতে জমিতে এখনও চাষ দেওয়ার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। চাষিদের চিন্তা, আমন চাষের বীজের বয়স বাড়ছে। অনেক গভীর পর্যন্ত শিকড় বিস্তার করায় বীজ তুলতেও সমস্যা হবে। গজধরপাড়ার বাসিন্দা মিন্টু মল্লিক বলেন, আমাদের এখানে ধান চাষ একটু দেরিতেই হয়। তবে এবার আরও একটু দেরি হচ্ছে। বৃষ্টির সমস্যার কারণেই এই দেরি। সব এলাকায় এখনও সাবমার্সিবলের সুবিধা নেই। • নিজস্ব চিত্র