Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জের, রাজ্যের অংশের টাকা ফেরত আসছে নবান্নের কোষাগারে

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জের, রাজ্যের অংশের টাকা ফেরত আসছে নবান্নের কোষাগারে
  • ১৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কথা রাখেনি মোদি সরকার। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ) প্রকল্পে ১১ লক্ষ বাড়ি তৈরির জন্য ৬০ শতাংশ টাকা তারা দিয়ে দেবে। ৪০ শতাংশ টাকা দেওয়ার কথা ছিল রাজ্যের। এক মাসের মধ্যে উপভোক্তা যাচাই সহ সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধেও দিয়েছিল কেন্দ্র। কেন্দ্র দ্রুত টাকা ছেড়ে দেবে বলে ধরে নিয়েছিল সংশ্লিষ্ট মহল। সেই মতো ডিসেম্বরের মধ্যেই সমস্ত কাজ সেরে ফেলেছিল রাজ্য। তড়িঘড়ি রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রকল্পের স্টেট নোডাল অ্যাকাউন্টে (এসএনএ) নিজেদের অংশের ১,৩৩৩ কোটি টাকা পাঠিয়েও দেয় নবান্ন। টানা দু’বছর পরও সেই টাকা পড়ে রয়েছে ওই নোডাল অ্যাকাউন্টে। কারণ, সেই টাকা আজও দেয়নি কেন্দ্র। এই অবস্থায় স্বচ্ছতার স্বার্থে এই টাকা আর ওই অ্যাকাউন্টে ফেলে রাখতে চাইছে না রাজ্য। ইতিমধ্যে ওই টাকা রাজ্যের কোষাগারে ফেরত আনার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। 

Advertisement

প্রশাসনের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলেই জানাচ্ছেন অভিজ্ঞ আমলারা। কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্র তাদের অংশের টাকা এসএনএ-তে পাঠানোর দেড় মাসের মধ্যে রাজ্যকে তার অংশের টাকাও ওই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠানো বাধ্যতামূলক। অনেক সময় কেন্দ্র টাকা দিয়ে রাখলেও রাজ্যের অংশ জমা না পড়া নিয়ে বিতর্ক বাধে। কিন্তু এক্ষেত্রে আগেভাগেই টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিল রাজ্যের অর্থদপ্তর। সেই টাকাই কাজে না লাগায় ফেরত যাচ্ছে নবান্নে। 
বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বাজেট নিয়ে আলোচনা হয় বিধানসভায়। সেখানে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ‘২০২২-২৩ আর্থিক বছরে ভারত সরকারের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক ১১ লক্ষ ১ হাজার ৭২৩টি বাড়ির বরাদ্দ অনুমোদন করেছিল। সেই হিসেবে মোট ১৩৫৬৮.৩২ কোটি টাকার মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের (৬০:৪০ অনুপাতে) যথাক্রমে  ৮১৪০.৯৮ কোটি এবং ৫৪২৭.৩২ কোটি টাকা দেওয়ার কথা। এর মধ্যে ১৩৩৩.৪৪ কোটি টাকা আগেভাগেই রাজ্য কোষাগার থেকে স্টেট নোডাল অ্যাকাউন্টে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কারণেই এই টাকা কাজে লাগানো গেত না। রাজ্য কোষাগারে ওই টাকা ফেরত এলে অন্যান্য ক্ষেত্রে খরচ করা হতে পারে। তবে ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ের দরজা খোলা রেখেছে বাংলার সরকার। রাজ্য বাজেটে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য আলাদা করে ১৫ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা খাতে ৬,৮৪০.৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের দেওয়ার কথা ৪,১০৪.২৭ কোটি টাকা এবং রাজ্যের ২৭৩৬.১৮ কোটি টাকা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ