নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাসে ঠাসা ভিড়। ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জো নেই। আরামবাগের কাপড় ব্যবসায়ী শেখ হাফিজুদ্দিনও কোনওরকমে দাঁড়িয়েছিলেন। হাতে জাপটে ধরা লেদারের ব্যাগ। তাতে প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা। পাইকারি দরে কাপড়, পোশাক কিনবেন তমলুকের রাধামনিতে। বাস থেকে নামার ঠিক আগেই টের পেলেন ব্যাগটি কাটা। টাকা উধাও! তা দেখেই বুকফাটা আর্তনাদ—‘আমার টাকা ছিনতাই হয়েছে। বাস থামান।’ তখনও ছিনাতাইকারীরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে। আগুপিছু না ভেবে সন্দেহজনক একজনকে জাপ্টে ধরে ফেলেন হাফিজুদ্দিন। তার হাত থেকে ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়েও নিয়ে বাস থেকে নেমে পড়েন। বাসের অন্যান্য যাত্রীরা হকচকিয়ে যান। সুযোগ বুঝে ভিড়ে গা ঢাকা দেয় দুষ্কৃতীরা। ফের বাস চলতে শুরু করে।
Advertisement
কিন্তু হাফিজুদ্দিনের বাকি ৩০ হাজার টাকা? প্রথম চিত্রনাট্যটি হাফিজুদ্দিনের সাহসিকতা হলে দ্বিতীয় চিত্রনাট্যটি লিখল পুলিসই। ‘শ্যুটিং স্পট’ তমলুকের রাধারানি। সময় সকাল সাড়ে ন’টা। শুরু হয় দুষ্কৃতী পাকড়াও অভিযান। সে এক রূদ্ধশ্বাস দৃশ্য! হার মানাতে পারে রূপোলি পর্দার কোনও থ্রিলারকে!
হাফিজুদ্দিন কাঁদতে কাঁদতে চলে আসেন রাধামনির ট্রাফিক বুথে। সেখানে দ্রুত ঘটনার বিবরণ দিয়ে কিছু একটা করার আর্জি জানান। সময় নষ্ট না করে দুষ্কৃতীদের ধরতে তৎপর হয়ে বুথের দায়িত্বে থাকা পুলিস ও সিভিক। সঙ্গে সঙ্গেই ইলেক্ট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যালকে একটানা লাল রেখে হলদিয়ামুখী সব যানবাহন আটকে দেওয়া হয়। কুমোরগঞ্জে পরবর্তী ইলেক্ট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যালে কর্মরত পুলিস কর্মীদের ফোনও করা হয় রাধামনির ট্রাফিক বুথ থেকে। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে বারবার দুর্ঘটনা রুখতে ওই জায়গায় নতুন করে ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম চালু হয়েছে। সেই সিগন্যাল রেড হয়ে যাওয়ায় জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে পড়ে সারি সারি গাড়ি। হাফিজুদ্দিনকে একটি বাইকে তুলে সেই বাসটির কাছে পৌঁছে যায় পুলিস। বাসের ভিতর থেকে নামিয়ে আনা হয় আনোয়ার আলি, আজিবুল মণ্ডল, ওয়াসিম খান, রাজু দালাল ও শেখ আতায়ুর নামে পাঁচ দুষ্কৃতীকে। উদ্ধার করা হয় ৩০ হাজার টাকাও।
আরামবাগ পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপুর এলাকায় বাড়ি শেখ হাফিজুদ্দিনের। সেখানে তাঁর একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। সোমবার সকাল ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ আরামবাগে বাসে চড়েন। ক্ষীরপাইয়ে নেমে বাস বদল করে মেচেদায় নামেন। এরপর চন্দ্রকোণা রোড-হলদিয়া বাসে চড়েন। গন্তব্যস্থল ছিল ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে রাধামনি বাজার। পুলিস জানিয়েছে, ওই বস্ত্র ব্যবসায়ীকে দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেট করেছিল দুষ্কৃতীরা। এদিনও তাঁর পিছু নিয়েছিল। রাধামনিতে বাসটি ঢোকার মুখেই ছিনতাইয়ের কাজটি সেরে ফেলে।
হাফিজুদ্দিন তমলুক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মোট ৯৫ হাজার টাকা ছিল। তারমধ্যে ৬৫ হাজার টাকা আমি উদ্ধার করতে পেরেছি। বাকি টাকা দুষ্কৃতীদের নাগালে ছিল। পুলিস যাতে ওই টাকা উদ্ধার করে দেয় সেই আর্জি জানিয়েছিলাম। সেটাও হাতে পেয়েছি। পুলিসকে কী বলে ধন্যবাদ দেব ভেবে পাচ্ছি না।’ তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আমরা পাঁচজনকে ধরেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’ অতঃপর, সিগন্যাল শুধু দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করে না। দুষ্কৃতীদের ধরিয়েও দেয়।
হাফিজুদ্দিন কাঁদতে কাঁদতে চলে আসেন রাধামনির ট্রাফিক বুথে। সেখানে দ্রুত ঘটনার বিবরণ দিয়ে কিছু একটা করার আর্জি জানান। সময় নষ্ট না করে দুষ্কৃতীদের ধরতে তৎপর হয়ে বুথের দায়িত্বে থাকা পুলিস ও সিভিক। সঙ্গে সঙ্গেই ইলেক্ট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যালকে একটানা লাল রেখে হলদিয়ামুখী সব যানবাহন আটকে দেওয়া হয়। কুমোরগঞ্জে পরবর্তী ইলেক্ট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যালে কর্মরত পুলিস কর্মীদের ফোনও করা হয় রাধামনির ট্রাফিক বুথ থেকে। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে বারবার দুর্ঘটনা রুখতে ওই জায়গায় নতুন করে ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম চালু হয়েছে। সেই সিগন্যাল রেড হয়ে যাওয়ায় জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে পড়ে সারি সারি গাড়ি। হাফিজুদ্দিনকে একটি বাইকে তুলে সেই বাসটির কাছে পৌঁছে যায় পুলিস। বাসের ভিতর থেকে নামিয়ে আনা হয় আনোয়ার আলি, আজিবুল মণ্ডল, ওয়াসিম খান, রাজু দালাল ও শেখ আতায়ুর নামে পাঁচ দুষ্কৃতীকে। উদ্ধার করা হয় ৩০ হাজার টাকাও।
আরামবাগ পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপুর এলাকায় বাড়ি শেখ হাফিজুদ্দিনের। সেখানে তাঁর একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। সোমবার সকাল ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ আরামবাগে বাসে চড়েন। ক্ষীরপাইয়ে নেমে বাস বদল করে মেচেদায় নামেন। এরপর চন্দ্রকোণা রোড-হলদিয়া বাসে চড়েন। গন্তব্যস্থল ছিল ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে রাধামনি বাজার। পুলিস জানিয়েছে, ওই বস্ত্র ব্যবসায়ীকে দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেট করেছিল দুষ্কৃতীরা। এদিনও তাঁর পিছু নিয়েছিল। রাধামনিতে বাসটি ঢোকার মুখেই ছিনতাইয়ের কাজটি সেরে ফেলে।
হাফিজুদ্দিন তমলুক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মোট ৯৫ হাজার টাকা ছিল। তারমধ্যে ৬৫ হাজার টাকা আমি উদ্ধার করতে পেরেছি। বাকি টাকা দুষ্কৃতীদের নাগালে ছিল। পুলিস যাতে ওই টাকা উদ্ধার করে দেয় সেই আর্জি জানিয়েছিলাম। সেটাও হাতে পেয়েছি। পুলিসকে কী বলে ধন্যবাদ দেব ভেবে পাচ্ছি না।’ তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আমরা পাঁচজনকে ধরেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’ অতঃপর, সিগন্যাল শুধু দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করে না। দুষ্কৃতীদের ধরিয়েও দেয়।



