নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েকমাসে চড়া দরে বাজারহাট সেরেছেন সাধারণ মানুষ। জাঁকিয়ে শীত পড়তেই মরশুমি সব্জির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আগুনে দর না-থাকলেও, যে দামে সাধারণ মানুষ আনাজপাতি কিনছেন, তা যে একেবারে সস্তা, তাও বলা যায় না। মাছ-মাংস বা ডিমের দামে এখনও হাত পুড়ছে মধ্যবিত্তের। তবে গত মাসে, অর্থাৎ ডিসেম্বরে খাদ্যদ্রব্যের দর আরও অনেকটাই চড়া ছিল। সেই বাজার খরচের উপর ভিত্তি করে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের খাই-খরচ অনেকটাই বেড়েছে। আমিষ হোক বা নিরামিষ, দুপুর বা রাতে খাবারের থালা সাজাতে নাভিশ্বাস উঠছিল সাধারণ মানুষের।
Advertisement
আম জনতার সেই সঙ্কটের বার্তা এবার বয়ে আনল ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিলও। হাটবাজার করার পর বাড়ির হেঁশেলে রান্না যে খাবার নিত্যদিন পাতে পরিবেশন করা হয়, তারই গড় খরচের আঁচ পেতে চেয়েছে এই সংস্থাটি। সেখানেই তারা হিসেব কষে দেখেছে, একজন নিরামিষাশীর এক থালা খাবারের জন্য গত ডিসেম্বরে খরচ হয়েছে গড়ে ৩১ টাকা ৬০ পয়সা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এক প্লেট নিরামিষ খাবারের দাম ছিল ২৯ টাকা ৭০ পয়সা। একবছরে খরচ বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ। আসা যাক, আমিষ থালির কথায়। গতমাসে এক প্লেট আমিষ খাবারের জন্য খরচ হয় ৬৩ টাকা ৩০ পয়সা। একমাস আগে, গতবছর ডিসেম্বরে আমিষ খরচ ১২ শতাংশ কম ছিল বলে জানিয়েছে ক্রিসিল। প্রসঙ্গত, নিরামিষ থালির মেনু হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে রুটি, ভাত, আলু, টোম্যাটো ও পেঁয়াজের তরকারি, ডাল, দই ও স্যালাড। আমিষ থালির ক্ষেত্রে ওই একই মেনুতে ডালের বদলে ব্রয়লার চিকেন যোগ করা হয়েছে। কেন বাড়ল রান্না করা খাবারের দাম? ক্রিসিলের দাবি, একবছরে টোম্যাটো ও আলুর দাম বেড়েছে যথাক্রমে ২৪ এবং ৫০ শতাংশ। ১৬ শতাংশ বেড়েছে ভোজ্য তেলের খরচও। মুরগির মাংসের দাম একবছরে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে আমিষ থালিতে।



