Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

দেশজুড়েই এনআরসি’র ধাঁচে নথি তৈরি হোক, দাবি হিমন্তের

দেশজুড়েই এনআরসি’র ধাঁচে নথি তৈরি হোক, দাবি হিমন্তের
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
পুরী ও গুয়াহাটি (পিটিআই): জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে (এনআরসি) নাম না থাকলে আধার কার্ডের আবেদন বাতিল করা হবে। একদিন আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসমের বিজেপি সরকার। আরও একধাপ এগিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করলেন, দেশজুড়েই এনআরসির ধাঁচে নথি তৈরি করা দরকার। কে ভারতীয় আর কে অনুপ্রবেশকারী, তা চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন।
Advertisement
বৃহস্পতিবার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে আসেন হিমন্ত। পরে তিনি বলেন, গতকাল অসম সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আধার কার্ড পেতে হলে এনআরসিতে নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে। এনআরসিতে নাম না থাকলে আধার কার্ড মিলবে না। আমি চাই দেশজুড়েই এনআরসির ধাঁচে নথি তৈরি হোক। যাতে কে ভারতীয় আর কে অনুপ্রবেশকারী তা সহজেই ধরা যায়।
গতকাল অসম মন্ত্রিসভা আধার কার্ড সংক্রান্ত ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছিলেন, অস্থিরতার সুযোগে বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ ভারতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে। গত দু’মাসে অসম পুলিস, ত্রিপুরা পুলিস ও বিএসএফ বহু অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের এই চেষ্টা আমাদের কাছে উদ্বেগের। আমাদের সামগ্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করে তোলা উচিত। সেই কারণেও আমরা আধার কার্ড সংক্রান্ত নিময় কানুন কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে আধার কার্ডের আবেদন ভেরিফিকেশনের জন্য নোডাল সংস্থা হিসেবে কাজ করবে রাজ্য সরকারের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দপ্তর। সব জেলায় এর দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত জেলাশাসক। প্রাথমিক আবেদন আসার পর সেটি আধার কর্তৃপক্ষ (ইউআইডিএআই) রাজ্য সরকারের কাছে ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠাবে। স্থানীয় সার্কেল অফিসার (সিও) খতিয়ে দেখবেন, আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের তরফে এনআরসিতে নাম নথিভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছিল কি না। এনআরসির জন্য আবেদন না করে থাকলে আধার কার্ডের আবেদন খারিজ হয়ে যাবে।
এদিন পুরীতে জগন্নাথ মন্দির দর্শনের পর দেশজুড়েই এনআরসির ধাঁচে নথি তৈরির দাবি করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হিমন্ত বলেন, বহু জায়গায় নদী থাকার কারণে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ কঠিন। যদিও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষিত করা সম্ভব। অসম ও ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় সরকার সেই কাজ করছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না। তাই অনুপ্রবেশ রোখার কাজে সমস্যা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ