Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

দেশে নিষিদ্ধ করা হোক জঙ্গিদের ইউটিউব চ্যানেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে সুপারিশ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের 

দেশে নিষিদ্ধ করা হোক জঙ্গিদের ইউটিউব চ্যানেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে সুপারিশ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের 
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) জঙ্গিদের তৈরি করা ইউটিউব চ্যানেলে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বিভিন্ন বক্তব্য রাখছে সংগঠনের প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানি এবং তার চ্যালারা। চলছে জেহাদি ভাবাদর্শ প্রচার। ভারতে এই সমস্ত ইউটিউব চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে সুপারিশ পঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেছে দিল্লি। এই ভিডিও আপলোড কর হচ্ছে কোথা থেকে এবং কারা এটা চালাচ্ছে তাই নিয়ে তথ্য জোগাড় শুরু হয়েছে বলেই খবর। পাশাপাশি, ভারতে কোনও এবিটি জঙ্গি এই ধরনের চ্যানেল খুলে জঙ্গি মতাদর্শ প্রচার করছে কি না খোঁজখবর শুরু হয়েছে সে সম্পর্কেও।
Advertisement
হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতবিদ্বেষ ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা হচ্ছে। তদারকি সরকারের মন্ত্রীরা ভারতে সবক শেখানোর হুমকি দিচ্ছেন। এমনকী ডাক দেওয়া হচ্ছে কলকাতা দখলেরও! একইসঙ্গে সমাজমাধ্যমেও ভারতকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুৎসিত মন্তব্য করছেন বাংলাদেশিরা। হাসিনা দেশ ছাড়ার পরই জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে জসিমউদ্দিন রহমানির মতো একাধিক জঙ্গি নেতা। গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতারা আলাদা আলাদা ইউটিউব চ্যানেল খুলেছে। সেখানে নিজের ভাবধারা প্রচার করে তরুণ সম্প্রদায়ের মগজ ধোলাইয়ের কাজ চলছে। ইউটিউব চ্যানেলে জঙ্গি নেতারা বলছে, কেন ভারতে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এখানে সংগঠনকে অর্থ সাহায্য করার ডাক দেওয়া হচ্ছে। এরসঙ্গেই চলছে ভারতবিরোধী বিভিন্ন প্রচার। এবিটি, আল কায়েদা বা আইএসের বাংলাভাষী ইউনিটসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের দশ-বারোটি ইউটিউব চ্যানেল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং উত্তর দিনাজপুরের গ্রামগুলিতে এই ইউটিউব চ্যানেলগুলি দেখার আগ্রহ বাড়ছে। এই চ্যানেলের মাধ্যমে তরুণদের সহজেই মগজ ধোলাই সেরে ফেলছে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। এরপর তাদের ‘দাওয়াত’ দেওয়া হচ্ছে সংগঠনের হয়ে পাকাপাকিভাবে কাজ করার জন্য। অসমে ধরা পড়া এবিটি জঙ্গিরাও জেরায় জানিয়েছে, নতুন সদস্য নিয়োগের জন্য তারা ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে বিভিন্ন জেহাদি ভাবধারা প্রচার করছে। সংগঠনে যোগদান করানোর পর সংশ্লিষ্ট যুবদের নিজস্ব অ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে তাদের কাজ কী এবং কোথায় কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তার নির্দেশ  দেওয়া হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ