Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

দেশে বেকারত্ব চরমে, রেকর্ড চাকরির আজব দাবি মোদির!

দেশে বেকারত্ব চরমে, রেকর্ড চাকরির আজব দাবি মোদির!
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘দেড় বছরে আমাদের সরকার প্রায় ১০ লক্ষ সরকারি চাকরি দিয়েছে। আমাদের মতো এত চাকরি আজ পর্যন্ত কোনও সরকার দেয়নি।’ সোমবার রোজগার মেলায়  এমনই দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৭১ হাজার নতুন নিয়োগপত্র প্রদান করার অনুষ্ঠানে তাঁর আরও দাবি, গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে নাকি তাঁর সরকার সবথেকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। এবং গ্রামীণ ভারতে সৃষ্ট সেই কর্মসংস্থানও বহুমুখী। কিন্তু বাস্তব সেকথা বলছে না। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে মোদি এবং বিজেপি ভোটপ্রচারে ঘোষণা করেছিল, বছরে ২ কোটি করে চাকরি দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি ১০ বছরেও। উল্টে প্রথম মোদি জমানা শেষের আগে খোদ নীতি আয়োগের একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, গত ৪৫ বছরের মধ্যে ভারতে বেকারত্বের হার সর্বাধিক। ২০২২ সালে সরকারের দেওয়া আর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, ২০১৪ থেকে পরবর্তী সাত বছরে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির জন্য ২২ কোটি কর্মপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন মাত্র ৭ লক্ষ ২২ হাজার জন। অর্থাৎ, বছরে ২ কোটি চাকরি দেওয়ার কথা ছিল যে সরকারের, তাদের আমলে চাকরি দেওয়ার প্রবণতা দ্রুতবেগে কমেছে।
Advertisement
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩০ হাজার জন। মাত্র দু’বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৭ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৩৮ হাজারে। তারপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ২০২২ সালে পর্যন্ত চাকরি দেওয়া হয়েছে সেই ৩৮ হাজারই।  সরকারি তরফে বারবার জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ৯ লক্ষ ৭৯ হাজার। বছরের পর বছর বহু কর্মীর অবসর হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় নিয়োগ হয়নি। তাই এই পাহাড়প্রমাণ শূন্যপদ। ২০২২ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ‘দেড় বছরের মধ্যে ১০ লক্ষ চাকরি দেব!’ অর্থাৎ সময়সীমা ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বর। এরপরই লোকসভা ভোটকে মাথায় রেখে শুরু হয় একটি অভিনব প্রচার। প্রথা মেনে যে সরকারি চাকরি হয়, সেগুলিকেই রোজগার মেলার নাম দিয়ে, সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এভাবে ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয় রোজগার মেলা। আবার বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকেও বলা হয় রাজ্য সরকারি চাকরিকেও এই রোজগার মেলার ছাতার নীচে নিয়ে আসতে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এমন আয়োজন।
এদিনও প্রধানমন্ত্রী একটি রোজগার মেলায় ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেছেন, এবার কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। কীভাবে? মোদির দাবি, দেশজুড়ে কয়েকশ গোবর গ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। গোবর্ধন যোজনার প্রকল্পে। এই প্রকল্পে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, কর্মসংস্থানও হচ্ছে। এছাড়া কৃষি বাজারকে ‘ই ন্যাম’ নামক ডিজিটাল প্রকল্পে সংযুক্ত করায় প্রচুর কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর্থিক উন্নতির উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘৩০ কোটি জনধন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে মহিলাদের নামে। সরকারের ভর্তুকি তারা পাচ্ছে সরাসরি অ্যাকাউন্টে।’ প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই প্রতিটি পদক্ষেপই কর্মসংস্থানের অঙ্গ।
সম্পর্কিত সংবাদ