Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

দেশে বাড়ছে ধর্মীয় হিংসা, মোদিকে চিঠি ‘উদ্বিগ্ন’ প্রাক্তন শীর্ষ আমলাদের

দেশে বাড়ছে ধর্মীয় হিংসা, মোদিকে চিঠি ‘উদ্বিগ্ন’ প্রাক্তন শীর্ষ আমলাদের
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: অযোধ্যার পথেই কাশীর বিশ্বনাথ মন্দির সংলগ্ন জ্ঞানবাপী ও মথুরার কৃষ্ণজন্মভূমি লাগোয়া শাহি ঈদগা বিতর্ক আদালতে পৌঁছেছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে মন্দির-মসজিদ বিতর্কে প্রাণ গিয়েছে বেশ কয়েকজনের। বিতর্কে নবতম সংযোজন, আজমিরের মইনুদ্দিন চিস্তির দরগা। এছাড়া, স্বঘোষিত গো-রক্ষক, ধর্ম-রক্ষকদের তাণ্ডব তো রয়েইছে! বিরোধীরা এই ঘটনাপ্রবাহকে ধর্মীয় জিগিরের রাজনীতি হিসেবেই দেখছে। ধর্মের নামে এই অশান্তি-বিবাদ, মেরুকরণকে ভালো চোখে দেখছেন না দেশের প্রাক্তন আমলা, মুখ্যসচিব, রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকরাও। উদ্বেগ প্রকাশ করে এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন তাঁরা। জানিয়েছেন, দেশের সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্রম-অবনতি ঘটছে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনের ফলে সংখ্যালঘুরা উদ্বিগ্ন ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন রাজ্য সরকারের একপেশে ভূমিকা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দায়ী করেছেন তাঁরা। 
Advertisement
এদিন দেশভাগ ও তৎকালীন সাম্প্রদায়িক হিংসার কথাও প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সরকারি আধিকারিকরা। প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে তারা জানিয়েছেন, দেশভাগ  ও তার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক হিংসার দগদগে স্মৃতি এখনও রয়ে গিয়েছে। দেশভাগের পরও নৃশংস গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তার থেকে ভালো বা খারাপ কোনওটাই বলা চলে না। এরই মধ্যে গত ১০ বছরে বিভিন্ন রাজ্য সরকার রীতিমতো পক্ষপাত ভূমিকা নিচ্ছে। যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যদিও সরাসরি কোনও রাজ্যের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ওই চিঠিতে গো রক্ষকদের তাণ্ডব, গণহত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে সংখ্যালঘু বিদ্বেষী বক্তৃতা, ব্যবসা বয়কটের ডাকের মতো বিষয়কে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন রাজ্যে বুলডোজার দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেছেন তাঁরা। সাম্প্রতিক মন্দির-মসজিদ বিবাদও স্থান পেয়েছে ওই চিঠিতে। তাঁরা জানিয়েছেন, নিজেদের হিন্দুত্ববাদী দাবি করে কিছু অজানা দুষ্কৃতীদের গোষ্ঠী মসজিদ, দরগায় পুরাতাত্ত্বিক সমীক্ষা চাইছে। তাদের দাবি, মন্দির ভেঙে সংখ্যালঘুদের ওই ধর্মস্থান তৈরি হয়েছে। এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে প্লেসেস অব ওয়রশিপ অ্যাক্ট (১৯৯১) মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন আমলারা। যেখানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের সব প্রান্তে যেখানে যে ধর্মস্থান যেমনভাবে আছে, তেমনই থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁদের বার্তা, ‘এই ধরনের অশান্তি, বিশৃঙ্খলা চললে কোনও সমাজ এগতে পারে না। আপনি ভারতের যে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন তাও বাস্তবায়িত হতে পারবে না। তাই দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে এব্যাপারে আপনার পদক্ষেপ আশা করছি।’ চিঠি প্রেরকদের তালিকায় নাম রয়েছে প্ল্যানিং কমিশনের প্রাক্তন সচিব এন সি সাক্সেনা, দিল্লির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গর্ভনর নাজিব জং, প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি, ব্রিটেনে ভারতের প্রাক্তন হাই কমিশনার শিব মুখোপাধ্যায় প্রমুখের।অবসরপ্রাপ্ত ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জামিরুদ্দিন শাহ, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর রবি গুপ্তা। 
সম্পর্কিত সংবাদ