নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুকে রক্ষকই হয়ে উঠলেন ভক্ষক! পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ লাইনে থাকা এএসআই চুনারাম মাণ্ডি মদ্যপ অবস্থায় এক নাবালিকার শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার বিকালে নিমতৌড়ি এলাকায় ওই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ওই এএসআইকে ঘিরে ধরে শারীরিক হেনস্ত করা হয়। তারপর রাতেই তাঁর বিরুদ্ধে তমলুক থানায় পকসো ধারায় মামলা দায়ের হয়। রাতেই অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ধৃতকে পূর্ব মেদিনীপুরে পসকো আদালতে তোলা হলে বিচারক ১২নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামলকুমার মণ্ডল বলেন, লাইনে কর্মরত এএসআই চুনারাম মাণ্ডিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ধৃত পুলিশ অফিসার কয়েক মাস আগে সুতাহাটা থানায় কর্মরত ছিলেন। কিন্তু, দিনের অধিকাংশ সময় মদ্যপ থাকার কারণে তাঁকে নিমতৌড়িতে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। কয়েক মাস ওই লাইনে ছিলেন চুনারাম। মঙ্গলবার বিকালে টলমল অবস্থায় লাইনের বাইরে বেরিয়ে যান। স্থানীয় একটি বস্তি এলাকায় এক নাবালিকার শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হতেই তাঁকে ঘিরে জটলা তৈরি হয়। শারীরিক হেনস্তাও হয়। খবর পেয়ে তমলুক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
জেলা পুলিশ লাইনে পোস্টিং থাকা এক পুলিশ অফিসার শ্লীলাহানিতে অভিযুক্ত হওয়ায় হেডকোয়ার্টারে পুলিশ মহলেও হইচই পড়ে যায়। সংশোধনের জন্য তাঁকে থানা থেকে লাইনে ক্লোজ করা সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং মদ্যপ অবস্থায় স্থানীয় বস্তিতে গিয়ে নাবালিকার শ্লীলাতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে। ওই পুলিশ অফিসারকে রেয়াত করা হবে না বলে রাতেই জেলা পুলিশের শীর্ষস্তর থেকে সিদ্ধান্ত হয়। সেইমতো তমলুক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪ এবং পসকো ৮ধারায় মামলা রুজু হয়। তারপর রাতেই তমলুক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি নিচ্ছে পুলিশ। অবৈধ তেলকাটিং থেকে অনলাইন লোটো কিংবা রাস্তায় গাড়ি আটকে টাকা আদায়ের মতো ঘটনায় অনেকটাই রাশ টানা হয়েছে। জনসংযোগ বাড়ানোর জন্য থানাভিত্তিক গুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। তারমাঝে চুনারাম মাণ্ডির ঘটনা পুলিশের ইমেজ ক্ষতি করে দিয়েছে। তাই আইন অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করে শ্রীঘরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।



