নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নাম শাহেনশা। শুধু নামে নয়, পূর্ব বর্ধমানের মাদক জগতেও সে ছিল শাহেনশা। বেশ কিছু দিন ধরেই তার নাম পুলিশের কাছে আসে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে শুক্রবার তাকে ১ কুইন্টাল ১০ কেজি গাঁজা সহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওড়িশা থেকে নিজের ২০ লক্ষ টাকার গাড়িতে গাঁজা এনেছিল সে। গন্তব্য ছিল বীরভূমের সিউড়ি। কিন্তু, তার আগেই তাকে ভাতার থানার পুলিশ হলদির কলাবাগান থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি বাজেপ্রতাপুরে। তার গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়। গাড়িটি তার স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রেশন রয়েছে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, হলদির কাছে বিপুল পরিমাণ ওই গাঁজা হস্তান্তর করার পরিকল্পনা ছিল। শাহেনশার গাড়িটি পুলিশ চিহ্নিত করতে পারে, সেই আশঙ্কা তার ছিল। সেই কারণে সে অন্য একটি গাড়িতে গাঁজা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ওড়িশা, কোচবিহার সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে গাঁজা এনে বিক্রি করত। মুখ্যমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরই পুলিশ তৎপরতা বাড়িয়েছে। এর আগে বর্ধমান থেকেও পুলিশ বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করেছিল। পুলিশ এই চক্রের আরও কয়েকজন মাস্টারমাইন্ডের নাম জানতে পেরেছে। তাদের খোঁজেও পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।
পুলিশ নজরদারি বাড়ানোয় পাচারকারীরাও কৌশল বদল করেছে। দামি গাড়ি থাকলে পুলিশের সন্দেহ হবে না। সেটা ভেবেই তারা গাড়িতে গাঁজা পাচার শুরু করেছে। হলদির কাছে থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়িতে ৫৮ প্যাকেটে গাঁজা ছিল। গন্ধ যাতে বাইরে না বের হয় তারজন্য সুগন্ধী রাখা ছিল। কিন্তু পুলিশ অনেক আগে থেকেই শাহেনশার উপর নজরদারি শুরু করে। হলদির কাছে আসতেই গাড়ি আটকে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িতে শাহেনশা একা ছিল।বর্ধমানে আরও একটি মাদক গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। তারা থাইল্যান্ড থেকে গাঁজা এনে বিক্রি করছে। কলকাতা এবং বর্ধমানে দামি গাঁজার চাহিদা ব্যাপক রয়েছে। এক পুরিয়া গাঁজা তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করে। পুলিশ এই গ্যাংটিকেও জালে তোলার চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন এলিট ‘পার্টি’তে গাঁজা সরবরাহ করে বলে জানতে পেরেছে। দাম বেশি হওয়ায় মূলত ধনী পরিবারের ছেলে-মেয়েরা বিদেশি এই গাঁজার নেশায় আসক্ত হচ্ছে। পুলিশ শাহেনশাকে জেরা করে অন্যান্য পাচারকারীদেরও গ্রেপ্তার করতে চাইছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, হেরোইন বা ব্রাউন সুগারের নেশাতেও অনেকেই শহরে আসক্ত রয়েছে। তারা কোথা থেকে নেশার সামগ্রী পাচ্ছে, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মাদক সহ ধৃত।-নিজস্ব চিত্র