রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: টানা ৭২ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সে ছিল বৃদ্ধার দেহ। স্বাভাবিকভাবেই পচন ধরতে শুরু করে। বেরোতে থাকে দুর্গন্ধ। দেহ আনতে গিয়েছিলেন মৃত বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা। অগত্যা, অ্যাম্বুলেন্সে নাকে-মুখে রুমাল গুঁজে বসেছিলেন তাঁরা। এ এক বিভীষিকার যাত্রা!
Advertisement
অবশেষে শুক্রবার বিকেলে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে মেদিনীপুর এসে পৌঁছল ঊর্মিলা ভূঁইয়ার (৭৫)-এর দেহ। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়। সেখানে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি প্রমুখ। গত তিনদিন ধরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কথায়, ‘যোগী সরকার কোনওভাবে সহযোগিতা করেনি। এমনকি কোনও ডেথ সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়নি। একটি চিরকুটে মৃতার নাম-ঠিকানা লিখে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয়। দেহ দ্রুত পাঠানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা করেনি যোগী সরকার।’ এদিন মৃত বৃদ্ধার নাতনি মৌমিতা মাহাত বলেন, ‘প্রায় ৩০টি দেহ দেখার পর দিদার দেহ শনাক্ত করি। বুধবার একটি অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় যানজটে আটকে ছিলাম। পুলিস ও প্রশাসনের তরফে কোনও সহযোগিতাই করা হয়নি। দেহ থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। খুব কষ্টে বাড়ি ফিরেছি। আমারও পায়ে চোট লেগেছিল। সামান্য ওষুধও মেলেনি।’ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া বলেন, ‘মৃতার পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার সর্বদা থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন। মহাকুম্ভে কোনও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছিল না। তাই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি।’গত সোমবার খড়গপুর থেকে বৃদ্ধার পরিবারের ৮ সদস্য ট্রেনে চেপে মহাকুম্ভের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মঙ্গলবার তাঁরা প্রয়াগরাজে পৌঁছন। সেদিন গভীর রাতে তাঁরা অমৃতস্নানের উদেশ্যে রওনা দেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, ‘সকলে একসঙ্গে অমৃতস্নান করতে গিয়েছিলেন। আচমকা ব্যারিকেড ভেঙে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরিবারের ৮ সদস্য বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। সেই সময় বৃদ্ধা মাটিতে পড়ে যান। বহু খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের বাকি সদস্যরা তাঁকে খুঁজে পাননি। মৌমিতার পায়ে আঘাত লাগে। তিনি কোনওক্রমে মৃত দেহের উপর দিয়েই অন্যত্র সরে যান। বাড়ির সদস্যদের খুঁজে না পেয়ে তিনি পুলিসকে ঘোষণা করার কথা বলেন। কিন্তু তারা কর্ণপাতও করেনি।’ পরে মৌমিতা স্থানীয় হাসপাতালে যান। সেখানে বৃদ্ধার খোঁজ না পেয়ে তিনি মর্গে যান। সেখানেই বৃদ্ধার দেহ শনাক্ত করেন।
এদিন মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, ‘ওখানে চারটে মেডিক্যাল কলেজ। কেন ময়নাতদন্ত করা হল না। তাহলে কি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ধিক্কার জানাই । পরিবারের পাশে আছি। মানুষগুলোর কাছে সেই ভয়াবহ দিনের কথা শুনে হতবাক হলাম। কেন্দ্র ও যোগী সরকারের অপদার্থতার জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে।’
এদিন মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, ‘ওখানে চারটে মেডিক্যাল কলেজ। কেন ময়নাতদন্ত করা হল না। তাহলে কি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ধিক্কার জানাই । পরিবারের পাশে আছি। মানুষগুলোর কাছে সেই ভয়াবহ দিনের কথা শুনে হতবাক হলাম। কেন্দ্র ও যোগী সরকারের অপদার্থতার জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে।’



