সংবাদদাতা, মানকর: সন্ধে ৬টা ৪১ মিনিটের পর আসানসোল-বর্ধমান রুটে পরবর্তী ট্রেন প্রায় চার ঘণ্টা বাদে। যাত্রীদের দাবি, ওই সময়ে লোকাল ট্রেন দেওয়া দরকার। না হলে জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রেলের এক অফিসার বলেন, কোন রুটে ট্রেন চলবে, তা রেল বোর্ড সমীক্ষা করে ঠিক করে। যাত্রীরা জানান, দুর্গাপুর থেকে ৬৩৫৫০ অন্ডাল-বর্ধমান মেমু প্যাসেঞ্জারের পর পরবর্তী লোকাল ট্রেন ৬৩৫২৬ দুর্গাপুরের সময় রাত্রি ১০টা ৩৮ মিনিটে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হচ্ছে বর্ধমান যাওয়ার জন্য। দুর্গাপুরের ব্যবসায়ী সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, দুর্গাপুর থেকে বর্ধমান যাওয়ার জন্য ওই সময়ে এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। একমাত্র ১৩৫০৪ রাঁচি হাতিয়া-বর্ধমান মেমু এক্সপ্রেস বর্ধমান পর্যন্ত সমস্ত স্টেশনে দাঁড়ায়। ট্রেনটির দুর্গাপুরের সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটে। কিন্তু অন্য এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি রাজবাঁধ, পারাজ, গলসি, মানকর সহ অন্য স্টেশনগুলিতে দাঁড়ায় না। ফলে ওই স্টেশনগুলির যাত্রীদের সমস্যা হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটের পরে ওই স্টেশনগুলিতে যেতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গলসির শেখ কুতুবউদ্দিন বলেন, এই এলাকা থেকে বহু মানুষ দুর্গাপুর, অন্ডালে কাজে যান। রাত্রে বাসের সুবিধা সেভাবে না থাকায় প্রায় অধিকাংশই ট্রেনের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু ট্রেনের সময়ের দীর্ঘ ব্যবধানের ফলে সমস্যা হচ্ছে। লাস্ট লোকালে নেমে অধিকাংশই সাইকেলে করে বাড়ি ফেরেন। মাঝের সময়ে ট্রেন থাকলে যাত্রীদের উপকার হবে। গুসকরার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ মল্লিক বলেন, নিয়মিত দুর্গাপুর থেকে ট্রেন ধরে খানা জংশনে নেমে গুসকরা যাই। কিন্তু রাঁচি হাতিয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ট্রেন না থাকায় সমস্যা হয়। অত রাত্রে মানকরে নেমে বাস পাওয়া যায় না। খানা জংশনে ট্রেন পেতেও সমস্যা হয়। মাঝের সময়ে লোকাল দিলে সুবিধা হবে। বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত নিত্যযাত্রীরা বলেন, ডিউটি শেষ করে দুর্গাপুর স্টেশনে এলেও রাঁচি-হাতিয়া মেমু এক্সপ্রেস পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে লাস্ট লোকালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে প্রায় চার ঘণ্টা স্টেশনে বসেই কেটে যায়। নিত্যযাত্রী বিশ্বরূপ গোস্বামী, গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুর, রাজবাঁধে একাধিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। ফলে রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসার জন্য আসেন। অনেক সময় ডায়ালিসিস পেশেন্টদের গন্তব্যে ফেরার জন্য কয়েক ঘণ্টা স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাত্রীরা জানান, আসানসোল-দুর্গাপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি বর্ধমান পর্যন্ত সম্প্রসারিত করলে কিছুটা সুরাহা হয়। ট্রেনটি আসানসোল থেকে এসে দীর্ঘক্ষণ দুর্গাপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর আবার আসানসোলের দিকে রওনা দেয়। তাই রাঁচি-হাতিয়া মেমু প্যাসেঞ্জারের পর ওই প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি দিলে সকলের সুবিধা হবে।



