Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পদ্মায় খরা, রাজ্য হয়ে গুজরাতের ডিমভরা ইলিশ যাচ্ছে বাংলাদেশে

পুজোর আগে বাংলাদেশের ইলিশ আসত এপার বাংলায়। দীর্ঘদিন ধরে এটাই ছিল রেওয়াজ। এবার অবশ্য এখনো তেমন কোনো খবর নেই। বরং ঘটেছে উলটো কাণ্ড।

পদ্মায় খরা, রাজ্য হয়ে গুজরাতের ডিমভরা ইলিশ যাচ্ছে বাংলাদেশে
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া এবং সংবাদদাতা, বনগাঁ: পুজোর আগে বাংলাদেশের ইলিশ আসত এপার বাংলায়। দীর্ঘদিন ধরে এটাই ছিল রেওয়াজ। এবার অবশ্য এখনো তেমন কোনো খবর নেই। বরং ঘটেছে উলটো কাণ্ড। ইলিশ ভারত থেকে পাড়ি দিচ্ছে পদ্মাপারে! সেই রুপালি শস্যের একটি বড়ো অংশ বাংলাদেশ যাচ্ছে গুজরাত থেকে। সেসব মাছ এখন দু-দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যের অন্যতম উপকরণ। ওপার বাংলার ব্যবসায়ীরা স্বীকার করেছেন, এবার যে পরিমাণ ইলিশ সে-দেশে যাচ্ছে, তা নজিরবিহীন। 

Advertisement

সূত্রের খবর, এবার সাড়ে চারশো টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত। চলতি বর্ষায় পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ওপারে যাচ্ছে সেই মাছ। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের ইলিশের কদর রয়েছে। আর এবার সে-দেশেই ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে ভারত থেকে। তাহলে কি বাংলাদেশে কদর হারাচ্ছে পদ্মার ইলিশ, প্রশ্ন তাঁর। তবে এর অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওপার বাংলার ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কথায়, এবার বর্ষার আগে নিম্নচাপ হয়নি তাঁদের দেশে। এর ফলে হয়তো মিষ্টি জলে যে পরিমাণ ইলিশ উঠে আসার কথা ছিল, তা হয়নি। জোগান কম থাকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি মায়ানমার থেকেও ইলিশ আনছে বাংলাদেশ, জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, গুজরাত থেকে এই প্রথম তাঁদের দেশে পৌঁছেছে। সেসবর মাছের পেটে ডিম ঠাসা। 
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কম হওয়ায় ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে আসছে ইলিশ। গত দু-তিন মাসে ভারতের গুজরাত থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ আসার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের মাছ ব্যবসায়ীরা গুজরাতের ভারুচ বন্দর এবং হাওড়া পাইকারি মাছবাজার থেকে ইলিশ আনছেন। বেনাপোল স্থলবন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসারের কার্যালয়ের ইনস্পেক্টর আহসাদুল আলম বলেন,  আমদানিকারীরা যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অন্যান্য মাছের পাশাপাশি ইলিশ আনছেন ভারত থেকে। হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন ও ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, আমরা সাধারণত এপার বাংলা থেকে বোয়াল, রুই, পারশে, ট্যাংরা ওপার বাংলায় পাঠাই। তবে এবার ওখানে ইলিশের ঘাটতি থাকায় প্রথমবার এখান থেকে  ইলিশ পাঠানো হল। বাংলাদেশে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা বেশি। গুজরাতের ইলিশে ডিম রয়েছে। তাই তা ওখানকার মানুষের পছন্দ।
তিনি জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং বিদেশ ও বাণিজ্য মন্ত্রকে চিঠি পাঠিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সরকার যে পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম ইলিশ ভারতে পৌঁছায়। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছরই অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে প্রকৃত রপ্তানি কম।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ